দুই ট্রে চারা, আর একটাই প্রশ্ন: এরা কি একই রকম হবে?
রাতের বৃষ্টির পর নার্সারির বেঞ্চে আমি দুইটা ট্রে চারা সারি করে রাখলাম। এক ট্রে পরিচিত, ভরসার। আরেকটা নতুন সরবরাহকারীর, ট্যাগ নেই। একটা একটা করে মিলানোর উপায় নেই, তাই ট্রে-দুটোকে দল হিসেবে দেখে ভাবলাম, এরা কি একই গোত্রের, নাকি লাগালে আচরণ বদলাবে?
আমি প্রথমে দূর থেকে দেখে ফেলতে চাইলাম, যেন সুন্দর দেখালেই ঠিক। দুই ট্রেই সবুজ, পরিপাটি। কিন্তু কাছে গেলে টের পেলাম, কারও ডাঁটা একটু পাতলা, পাতার ছোঁয়া একরকম নয়। হাসপাতালের ছবিতেও এমন হয়, বাইরে থেকে মিল মনে হলেও ভেতরের ছোট বদল চোখ এড়ায়।
তখন আমরা ঠিক করলাম, চোখের আন্দাজ নয়, মাপজোকের তালিকা লাগবে। প্রতিটা চারার জন্য একই নিয়মে কিছু জিনিস লিখলাম: আকার, গড়ন, খসখসে ভাবের ইশারা, আলো-ছায়ার ধরন। হাসপাতালের ছবিতে এটাকেই বলে ছবির ভেতর থেকে নেওয়া মাপ। কথা সহজ, কারণ দেখিয়ে তুলনা করা যায়।
ব্যাপারটা আরো ঠিক করতে তিনটা বদল আনলাম। সাধারণ আলোতে না থেমে চার রকম ছাঁকনি দিয়ে আলো ফেলে দেখলাম, যাতে পাতার শিরা আর ধারগুলো ধরা পড়ে। তারপর এমন স্কেল বাদ দিলাম যেটা একেবারে লম্বা এক চারা দেখেই সবকিছু টেনে বদলে দেয়। আর দুই ট্রেকেই একই রুলার দিয়ে মাপলাম, ভরসার ট্রেটাকে মান ধরে।
এবার ট্রে-দুটো আর শুধু “দেখতে কেমন” নয়। কাগজে অনেকগুলো মাপ মিলিয়ে দুইটা মেঘের মতো ছবি দাঁড়াল। আমি দেখলাম, মেঘ দুটোর মাঝখান আর ছড়িয়ে থাকার ফারাক কতটা। ফারাক খুব বড় হলে সংখ্যাটা চেপে ধরলাম, যাতে হাতে রাখা সহজ হয়।
লোডিং ডকে এসে ওই ফারাকটাই সতর্ক বাতি হলো। ভরসার মতো চালান হলে ফারাক কম থাকে, বেমানান হলে বাড়ে, তাই আগেই আলাদা করা যায়। হাসপাতালের ছবিতেও একইভাবে বোঝা যায় কোন দলে ছবি “নিজেদের মতো”, আর কোন দলে যন্ত্র বা সেটিং বদলে গিয়ে আলাদা হয়ে গেছে। পুরো চালানকে একটুখানি সম্ভাবনার মতো সিগন্যালেও নামিয়ে আনা যায়।
কয়েকটা চারা থাকলেও এই মাপজোকটা তেমন দুলে না, চোখের আন্দাজের মতো নয়। কেউ যদি ট্রে-টা দূর থেকে ঠিকঠাক দেখায়, ছাঁকনি দিয়ে দেখা ধার আর সূক্ষ্ম দাগে গড়বড় ধরা পড়ে। ক্লিপবোর্ডে আমি দেখাতে পারি কোন মাপটা বেশি সরে গেছে, কোন চারাগুলো কারণ, শুধু “অদ্ভুত লাগছে” বলি না।