দশ মিনিটে নতুন গান ধরার কৌশলটা কোথায় লুকিয়ে ছিল
পাড়ার গানের ঘরে আলো জ্বলে উঠল। পিয়ানোর ওপর নতুন নোটের গাদা পড়তেই সবাই নড়েচড়ে বসল, অতিথি আসতে আর দশ মিনিট। পরিচালক পুরো গান শেখাতে গেলেন না; এমন একটা ছোট ওয়ার্মআপ দিলেন, যাতে দু-একটা ছোট ঠিকঠাক করলেই দলটা গুছিয়ে যায়।
বেশিরভাগ দল একটাই গান ঘষে চকচকে করে, বা এমন জটিল ট্রেনিং আনে যা কিছু গানে খাপে খাপে বসে। নতুন ধরনের গান এলেই রিহার্সাল লম্বা হয়, না হলে সেই ট্রেনিং বেমানান লাগে। ছোট্ট কয়েকটা উদাহরণে দ্রুত বদলাতে পারে না।
পরিচালকের নতুন চালটা ছিল অন্যরকম। ওয়ার্মআপটা একা কেমন, সেটা দেখে না; প্রথম দুটো ছোট সংশোধনের পর গানটা কেমন দাঁড়ায়, সেটা শুনে বেছে নেয়। নানা গানে নানা ছোট ওয়ার্মআপ, তারপর এক-দুটো ঠিকঠাক, তারপর পরের লাইন গাওয়া। কানই বিচারক।
আরও সূক্ষ্ম একটা জিনিস ছিল। কোনো ওয়ার্মআপে প্রথম ঠিকঠাক কাজে লাগে, কিন্তু দ্বিতীয়টা বেশি দূর ঠেলে দেয়। তখন পরিচালক বোঝে, ঠিকঠাক করার ধাক্কাটা পরের ঠিকঠাককে বদলে দিচ্ছে। কখনও আবার এই হিসেবটা কম ধরেও চলে, সময় বাঁচে।
একদিন সহজ সুর, কয়েকটা নোটেই ধরা যায়। আরেকদিন ভিড়ভাট্টা টুকরো, দ্রুত শব্দগুলো ঠিক নামাতে হয়। তবু একই ধারণা কাজ করে, কারণ দলটার নিয়ম একটাই: শোনো, ছোট বদল দাও, আবার চেষ্টা করো।
সবচেয়ে কঠিন দিনটা এল নতুন হলঘরে, শব্দ ফিরে ফিরে আসে। কখনও অতিথি পরিচালক এসে ভিন্ন তালে হাত নাড়ে। এখানে মুখস্থ উত্তর চলে না। গাইতে হয়, প্রতিধ্বনি কেমন হলো শুনতে হয়, তারপর ছোট বদল। প্রতিবার বদলের পর নতুন করে গাইলে তবেই বোঝা যায় উন্নতি হচ্ছে কি না।
সিজন শেষে তারা নতুন গান আগের মতোই শেখে, কিন্তু শুরুটা বদলে যায়। অপরিচিত গানেও তারা এমন জায়গা থেকে শুরু করে, যেখানে এক থেকে তিনটা ছোট ঠিকঠাক অনেক দূর নিয়ে যায়। ব্যাপারটা হলো, প্রতিটা গানের জন্য আলাদা কোচিং বানানো নয়; এমন একটাই শুরুর সেটআপ বানানো, যা দ্রুত ঠিকঠাক নিলেই কাজ করে।