হলঘরের হাততালির প্রতিধ্বনি দিয়ে আকাশের দূরত্ব ধরা
কনসার্ট শেষ, হলঘর অন্ধকার। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার চেয়ারে ছোট ছোট মাইক বসিয়ে একবার হাততালি দিল। প্রতিধ্বনি একসাথে ফেরে না, একটু একটু দেরি করে। ওই দেরিগুলো ধরেই সে হলঘরের মাপ আন্দাজ করতে চায়।
ব্যাপারটা হলো, একেকটা দেরির পেছনে একেকটা কারণ লুকিয়ে থাকে। পর্দা শব্দ গিলে ফেলতে পারে, দেয়ালের কোণ ঘুরিয়ে দিতে পারে, মাইকও নিজের ভুল ঢুকিয়ে দিতে পারে। আকাশেও এমন হয়, মাঝখানের ভারী কিছু আলোকে বাঁকিয়ে একই ঝিলিককে আলাদা পথে পাঠায়।
আগে কাজটা অনেক সময় টুকরো টুকরো হত। প্রতিটা মাইকের জন্য আলাদা করে হিসাব, তারপর সেগুলো থেকে একটা ছোট সারাংশ বানিয়ে সব একসাথে ধরা। এতে কিছু জরুরি যোগসূত্র চাপা পড়ে যায়, যেমন পর্দা নরম হলে প্রতিধ্বনির দেরি কীভাবে বদলায়।
নতুন ভাবনাটা হলো, প্রতিটা মাইকের জন্য একটা ছোট ফোল্ডার রাখা। ফোল্ডারে থাকে অনেকগুলো সম্ভব হলঘর-আকৃতি আর প্রতিধ্বনি-দেরির জোড়া, যেগুলো ওই রেকর্ডের সাথে মেলে, সাথে বাইরের গোলমালের আলাদা নোট। তারপর মিক্সিং কনসোল একবারে অনেক ফোল্ডার দেখে, শুরু থেকে সব রেকর্ড আবার না শুনেও।
আকাশের কাজেও একই ছক। প্রতিটা ঝলমলে উৎসের জন্য একটা ফোল্ডার, ভেতরে অনেকগুলো সম্ভব ভর-বণ্টন আর তারার চলার ছবি, সাথে পথে পথে বাড়তি বাঁকানোর আলাদা আন্দাজ, আর আলো পৌঁছাতে যত দেরি হয় তার মাপ। আর ফোল্ডারগুলো এমনভাবে ঠিকঠাক ওজন পায় যাতে শুরুর ধরা-ধরি চুপিচুপি ফল টেনে না নিয়ে যায়।
তারপর তারা কাগজে-কলমে বড় মহড়া চালায়, সামনে যে নতুন আকাশ-ক্যামেরায় অনেক এমন ঘটনা ধরা পড়তে পারে ধরে নিয়ে। কিছু খুব ভালো তথ্য, অনেক মাঝারি, আর অনেক বেসিক, তবু প্রতিধ্বনির মতো মূল দেরিটা ধরা থাকে। সব একসাথে ধরলে দূরত্বের হিসাব টাইট হয়, অন্ধকার ঠেলার মতো অজানা ব্যাপারটাও পরিষ্কার হতে থাকে।
সবচেয়ে কাজে দেয় দেরির মাপটা যত সূক্ষ্ম করা যায়, ঠিক যেমন হাততালির ফাঁকটা ঘড়িতে আরও ভালো করে ধরা। আর তারার চলার খবর যত ভালো, তত কম “একই রকম দেখায়” ফাঁদে পড়তে হয়। ইঞ্জিনিয়ার দেখল, দামী কয়েকটা মাইক একা নয়, অনেক সাধারণ মাইক পাশে থাকলেই হলঘরের ছবিটা বেশি পরিষ্কার হয়।