কাদামাটির মরীচিকা ও ব্ল্যাক হোলের ধাঁধা
কুয়াশা ঢাকা জলাভূমির ধারে দাঁড়িয়ে মানচিত্রকর পুরনো ম্যাপ মেলাচ্ছেন। সেখানে কাদার বুক চিরে একটা সুন্দর রাস্তার কথা বলা আছে। কিন্তু কাগজে আঁকা থাকলেই তো আর মাটি শক্ত হয় না। তাই পা ফেলার আগে তিনি লাঠি দিয়ে কাদা খুঁচিয়ে পরখ করেন। পদার্থবিদ্যায় বিজ্ঞানীরাও ঠিক এই কাজটাই করেন। তারা দেখেন, অঙ্কের হিসেবে দারুণ দেখতে কোনো ধারণা বাস্তবে আদৌ টেঁকে কি না।
মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় আর অজানা জায়গা হলো ব্ল্যাক হোল। এর ভেতরে আটকে পড়া তথ্য কীভাবে বাইরে আসে, তা নিয়ে সম্প্রতি একটা নতুন তত্ত্ব বেশ সাড়া ফেলেছিল। অঙ্কের সাহায্যে তারা মানচিত্রে এমন এক জটিল রাস্তার খোঁজ দিয়েছিলেন, যা দেখে মনে হচ্ছিল বহু দশকের পুরনো এক ধাঁধার সমাধান বুঝি মিলল।
কিন্তু তারপর নতুন একদল বিজ্ঞানী এই রাস্তাটা পরখ করে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। মানচিত্রকর যেমন লাঠি দিয়ে কাদার শক্তভাব মাপেন, বিজ্ঞানীরাও তেমনি মহাবিশ্বের অকাট্য নিয়মগুলো দিয়ে তত্ত্বটা যাচাই করলেন। তাদের হাতে থাকা লাঠিটা হলো কার্যকারণ বা কারণ ছাড়া কোনো কিছু না ঘটার অমোঘ নিয়ম।
তত্ত্বটা যাচাই করতে গিয়েই পায়ের তলার মাটি সরে গেল। বিজ্ঞানীরা দেখলেন, নতুন ওই ধারণাটা সত্যি হতে গেলে কার্যকারণের নিয়ম ভাঙতে হবে। ব্যাপারটা অনেকটা উল্টোদিকে নদী বয়ে চলার মতো অসম্ভব। তারা প্রমাণ করলেন, অঙ্কের হিসেবে ওই সুন্দর রাস্তাটা বাস্তবে কোনোভাবেই তৈরি হতে পারে না।
এই আবিষ্কার ব্ল্যাক হোল নিয়ে সাম্প্রতিক একটা বড় ধারণাকে পুরোপুরি উল্টে দিল। তথ্য বেরিয়ে আসার ওই জটিল রাস্তাটা আসলে কাদায় তৈরি হওয়া একটা মরীচিকা মাত্র। ব্ল্যাক হোলের আসল রহস্য এখনো অজানা থাকলেও, এই ভুল রাস্তাটা মুছে ফেলার ফলে ভবিষ্যতের অভিযাত্রীরা অন্তত চোরাবালিতে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচবেন।