দেয়াল পোস্টারে দাগ টানা আর ধূসর ছবির ভেতরের আসল রেখা
লম্বা টেবিলে আমি ছোট ছোট ছবি ছড়িয়ে দিলাম, দেয়ালে এক বড় পোস্টার বানাবো বলে। কিছু ছবি একে অন্যের ওপর উঠে গেছে, কিছু কাগজ কপিতে টান পড়েছে। সবচেয়ে ঝামেলা, কাছাকাছি দুইটা আকার যেখানে লেগে আছে, সেখানে পাতলা ফাঁকটা ঠিকমতো দাগ টানা।
সমস্যা তাড়াতাড়ি ধরা পড়ল। দাগ দেওয়া ছবি আমার হাতে অল্প, কারণ কেউ একজনকে বসে বসে প্রতিটা কিনারা চিহ্ন দিতে হয়েছে। এই অল্প দেখে পুরোনো কম্পিউটার সেটআপ অনেক সময় সূক্ষ্ম ধার মিস করে, দুইটা কোষ গায়ে গা লাগালে আলাদা রাখতে পারে না।
আমি এক নতুন কৌশল নিলাম, যেন দুই দিক থেকে ছবি পড়া। এক দিক থেকে একটু দূরে সরে পুরোটা দেখে জায়গা আর বড় আকার ধরলাম। তারপর কাছে ঝুঁকে ধারগুলো আবার তুলে আনলাম, আর আগের পরিষ্কার নোটগুলো ঠিক সেই ধাপে হাতে পেলাম, যাতে পরে এসে আন্দাজ করতে না হয়।
এই পোস্টার বানানোটা ঠিক সেই কাজের মতো, যেখানে ধূসর টিস্যুর ছবি থেকে কোথায় কী আছে তার মানচিত্র বানাতে হয়। দূর থেকে দেখা মানে চারপাশের ধারণা, কাছে ঝুঁকে দাগ টানা মানে ধারালো ইশারা। শুধু ঝাপসা দূরের ছবি হলে সীমানা গুলিয়ে যায়, শুধু ধার দেখলে জায়গা মেলে না, দুটো একসাথে থাকলেই ঠিক হয়।
ছবিটা দেয়ালের মতো বড় হলে আমি একসাথে টানতে পারি না, তাই ওভারল্যাপ করে টুকরো টুকরো করে জুড়ি। কিনারায় কাটা ভাব না আনতে কাগজটা উল্টে পাশে একটু বাড়তি মার্জিন বানাই। দাগ দেওয়া নমুনা কম বলে, হালকা বাঁকানো টানা কপি দিয়ে হাত পাকাই, যেন আসল টিস্যু একটু বেঁকে থাকলেও কাজ নষ্ট না হয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর ভুলটা হয় যেখানে দুইটা আকার একদম লেগে থাকে। আমি সেখানে ফাঁকের ওপর একটু মোটা দাগ দিই, যাতে ওই সরু রেখাটা চোখ এড়ায় না। কম্পিউটারকেও সেই সরু সীমানায় বেশি চাপ দেওয়া হয়, যেন দুইটা কোষ এক হয়ে না যায়।
শেষে পিছিয়ে দাঁড়িয়ে দেখি, পোস্টারে বড় বিন্যাস ঠিক আছে, আর পাতলা সীমানাগুলোও পরিষ্কার, পাশের আকারগুলো আলাদা। আগে যেখানে দাগ টানতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলতাম, এখন দূরের ধারণা আর কাছের ইশারা একসাথে থাকায় হাত কাঁপে না। ধূসর ছবির ভেতরেও তখন আলাদা আলাদা অংশের মানচিত্রটা অনেক বেশি গোছানো লাগে।