স্ট্যাম্পের লাইনে আটকে থাকা ফায়ার ট্রাক, আর শরীরের ভেতরের এক ব্রেক
সমুদ্রের ধারের টাউন হলে আগুন লাগলে কী হবে, সেই মহড়া চলছে। ট্রাক দাঁড়িয়ে, পাইপ গুটানো। কিন্তু সেফটি অফিসার বলছে, আরও স্ট্যাম্প আর ফোনে নিশ্চিত না হলে গেট খুলবে না। দূরে ধোঁয়া উঠছে, আর মিনিট গড়াচ্ছে।
ছড়িয়ে পড়া মেলানোমায় অনেকের অভিজ্ঞতা এমনই। শরীরের রক্ষীরা বিপদ চিনতে পারে, তবু ক্যানসার টিকে যায়। কারণ রক্ষীদের নিজেরই একটা ব্রেক আছে, যাতে ভুল করে নিজের শরীরকে আঘাত না করে। সেই ব্রেকের নাম CTLA-4।
এক দল মানুষকে ভাগ করে তিন রকম সিল করা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, আর কে কী পেল, সেটা রোগী বা টিম কেউই তখন জানত না। দুই দলে ছিল ইপিলিমুম্যাব, যা CTLA-4 ব্রেকটা আটকাতে বানানো। আরেক দলে শুধু gp100 নামে এক টুকরো “চিহ্ন” ছিল, যেন সন্দেহভাজনের ছবি।
ফল দেখে মনে হলো গেটটা শেষমেশ খুলল। ইপিলিমুম্যাব পাওয়া মানুষরা গড়ে বেশি দিন বেঁচেছিলেন, শুধু gp100 পাওয়া দল থেকে। gp100-টা ইপিলিমুম্যাবের সঙ্গে দিলেও বাড়তি লাভ দেখা যায়নি। শিক্ষা একটাই: স্ট্যাম্পের বাধা না কাটলে ছবি দেখিয়ে লাভ কম।
মজার ব্যাপার, শুরুতেই দেখে মনে হতে পারে তফাত নেই। বড় একটা দল নড়তে সময় নেয়। কয়েক সপ্তাহ পরে কারও কারও অবস্থা ভালো হতে থাকে, আর যাদের কাজ করেছিল, তাদের মধ্যে কারও লাভ অনেক দিন টিকে ছিল। কারও আবার খারাপ হলে কিছু ক্ষেত্রে আবার ইপিলিমুম্যাব দেওয়া হয়েছিল, আর কিছুজন ফের সামলাতে পেরেছিলেন।
কিন্তু গেট দ্রুত খুললে ঝুঁকিও বাড়ে। CTLA-4 আটকালে শরীরের রক্ষীরা কখনও সুস্থ অংশেও ঝাঁপিয়ে পড়ে। ত্বক আর পেটে সমস্যা, ডায়রিয়া এসব অনেকের হয়েছিল। বেশির ভাগই কয়েক সপ্তাহে শান্ত করা গেছে রোগপ্রতিরোধ কমায় এমন ওষুধে, কিন্তু অল্প কিছু মানুষ মারাত্মক জটিলতায় মারা গিয়েছিলেন।
টাউন হলের মহড়ায় শেষে বোঝা গেল, জোরে সাইরেন বা আরও ফ্লায়ার নয়, আসল কাজটা ছিল একটা নিয়মের জট খুলে দেওয়া। ইপিলিমুম্যাব সেই ব্রেকটা সরিয়ে কিছু মানুষের হাতে বাড়তি সময় দিয়েছিল, আর ছোট একটা দলের জন্য সেই সময়টা টেকেও ছিল। এখন অনেক জায়গায় চিকিৎসকেরা “শুধু চেষ্টা” নয়, “সময় বাড়ানো”ও ভাবতে পারেন।