অপেক্ষার ভিড়ে অনুভূতি কোথায় জন্মায়
আগমনী ফটকের কাঁচের দরজা বারবার সরে খুলছে। ভিড়ের মধ্যে একজন মানুষ মাথা তোলে, আবার নামায়, প্রতিটা ট্রলি আর চেনা কোটে চোখ আটকে যায়। অপেক্ষাটাকে বদলাচ্ছে ভেতরে লুকানো কোনো বোতাম না, চোখের খোঁজটা কতটা স্থির থাকছে সেটাই।
অনেকেই ভাবত, এমন আচরণ বানাতে হলে আলাদা একটা অনুভূতির ঘর লাগবে। কিন্তু ফটকের সামনে দাঁড়ালে বোঝা যায়, শুধু নাম দিলেই চলে না। ভিড় বদলায়, শরীর সাড়া দেয়, পাশের মানুষের ইশারা টানে; খোঁজও তাই একরকম থাকে না।
নতুন কথাটা হলো, অস্থির দিকটা আলাদা ঘর থেকে আসে না। মনে রাখা ছবিটা যদি বেশি কেঁপে ওঠে, চোখ তখন নতুন নতুন মুখে লাফায়, মন ছিঁড়ে যায়, আসল মানুষটা হারিয়ে পড়ে। কাঁপুনি কম হলে সেই মুখটাই একটু বেশি সময় ধরে থাকে, ভুল দরজা এড়ানো যায়।
আর ভালো লাগার দিকটা আসে ছোট্ট পাওয়া থেকে। হাঁটার ভঙ্গি, গলার মাফলার, ব্যাগের ধরন হঠাৎ মিলে গেলে খোঁজটা আবার জেগে ওঠে। কিছু না মিললে টান কমে। এখানে বদলানো ভিড় হলো বাইরের দুনিয়া, চোখের স্থিরতা বা লাফানো হলো অস্থিরতা, আর ঠিকঠাক সূত্র মিললে যে ছোট্ট উঠানামা, সেটাই ভালো লাগা।
ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হয় যখন এই যন্ত্র একা থাকে না, মানুষের সঙ্গে চলতে থাকে। কারও শরীরের সাড়া দেখে সেটার খোঁজ একটু শান্ত করা যায়, বা ঠিক সূত্র পেলে টান বাড়ানো যায়। যেন পাশে থাকা কেউ বারবার ভুল দরজায় তাকানো চোখটাকে আলতো টেনে সরিয়ে দিল।
তাই নতুন জিনিসটা অনুভূতি লেখা আরেকটা বাক্স না। একই খোঁজ, একই শেখা, একই ওঠানামা মিলেই অনুভূতির মতো আচরণ গড়ে ওঠে, বিশেষ করে মানুষ আর যন্ত্র একসঙ্গে থাকলে। আগে যেন বাক্সটা খুঁজছিল সবাই। এখন দেখা যাচ্ছে, আসল জিনিসটা চলমান আদানপ্রদানের ভেতর।