অসম্পূর্ণ কঙ্কালের রহস্য
যাদুঘরের ধুলোমাখা ঘরে নতুন কর্মীটি অবাক হয়ে টেবিলের দিকে তাকিয়ে আছে। সেখানে একটা ডাইনোসরের কঙ্কাল সাজানো, কিন্তু বেশিরভাগ হাড়ই নেই। মাত্র কয়েকটা টুকরো পড়ে আছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং প্রধান বিজ্ঞানী তাকে পরীক্ষা করার জন্য ইচ্ছে করেই এমনটা করেছেন।
সাধারণত শিক্ষানবিশরা এমন কঙ্কাল জোড়া দেয় যা প্রায় সম্পূর্ণ। পাশের হাড় দেখে ফাঁকা জায়গাটা আন্দাজ করা সহজ। কিন্তু এতে তারা অলস হয়ে যায়। প্রাণীর গঠন না বুঝেই তারা কাজ সারে, অনেকটা বাড়ির ভিত না জেনে দেয়ালের ফাটল মেরামতের মতো।
বিজ্ঞানী টেবিল থেকে আরও হাড় সরিয়ে ফেললেন, মাত্র চার ভাগের এক ভাগ বাকি রইল। তিনি বোঝালেন যে এখন আর পাশের হাড় দেখে নকল করা যাবে না। পুরো প্রাণীটার গঠন বুঝতে হবে। যেমন কোমরের হাড় দেখেই বুঝতে হবে পায়ের দৈর্ঘ্য ঠিক কতটুকু ছিল।
এই নতুন পদ্ধতিতে কাজের ধরনটাই বদলে গেল। ছাত্রটিকে এখন শুধু টেবিলের অল্প কয়েকটা হাড় পরিষ্কার করতে হচ্ছে। বাকি ফাঁকা জায়গা নিয়ে এখনই ভাবার দরকার নেই। ফলে কাজটা সাধারণ সময়ের চেয়ে তিনগুণ দ্রুত শেষ হলো।
আসল হাড়গুলো বোঝা হয়ে গেলে ছাত্রটি বাকি অংশ তৈরি করতে শুরু করল। কাজটা কঠিন, কারণ তাকে নিজের জ্ঞান দিয়ে বাকি পুরো শরীরটা বানাতে হচ্ছে। এতে প্রমাণ হলো যে সে কঙ্কালের গঠনটা মুখস্থ না করে সত্যিই শিখেছে।
কম্পিউটারের শেখার পদ্ধতিও ঠিক এইরকম। যখন আমরা তাদের সামনে থেকে বেশিরভাগ তথ্য লুকিয়ে রাখি, তখন তারা আর মুখস্থ করতে পারে না। তখন তারা খুঁটিনাটি না দেখে পুরো ছবিটার আসল অর্থ বুঝতে শেখে।