মেঝেতে ছড়ানো ছবির গুচ্ছ, আর একটা শেখার খেলা
ড্রয়িংরুমের মেঝেতে আমি ছড়িয়ে দিলাম ছাপা ছবি। কাজটা সোজা, একই জায়গার ছবি একসাথে হবে, আলো বদলালেও বা কাছে থেকে তোলা হলেও। নীল আকাশ দেখলেই কিছু মিলিয়ে যায়, কিছু আবার চোখে ধাঁধা লাগায়।
আমি যদি শর্টকাট ধরি, বেশির ভাগ নীল মানেই এক দলে, তাহলে দ্রুত এগোই, কিন্তু অ্যালবাম ভুল হয়। সমুদ্র আর সুইমিং পুল গুলিয়ে যায়। কম্পিউটারও এমনই, সহজ ইশারায় ভর করে ঠিক করছে মনে হয়, পরে গিয়ে ধরা খায়।
তখন আমি এক নতুন নিয়ম বানালাম। প্রতিটা ছবির দুটো বদলানো কপি করি, একটা কেটে শুধু অংশ রাখি, আরেকটার রং গরম-ঠান্ডা, উজ্জ্বল-ফিকে করে দিই। এই দুই কপিকে আমি জোর করে “জোড়া” ধরি, আর মেঝের বাকি বদলানো ছবিগুলোকে “জোড়া নয়”।
কিন্তু তারপর বুঝলাম, শুধু কাটা কপি করলে আমি আবার রঙের মোটামুটি ভাব ধরে চুরি করতে পারি। রঙটা ভালো করে নাড়াচাড়া করলে সেই শর্টকাট ভাঙে, তখন গঠন আর সাজানো জিনিসপত্র দেখে মিলাতে হয়। একটু ঝাপসা করলে টুকটাক ধারালো দাগ ধরে মেলানোও কঠিন হয়।
ছবি মিলাতে মিলাতে আমি নোট নেওয়ার ধরন বদলাই। একটা গোপন, বিস্তারিত নোট রাখি ভবিষ্যতের জন্য। আরেকটা ছোট, দ্রুত ট্যাগ রাখি শুধু এই মিলানোর খেলায় ব্যবহার করতে। কম্পিউটারেও ছবি দেখে একটা মূল বর্ণনা থাকে, তারপর ছোট একটা বাড়তি অংশ সেই বর্ণনাকে “খেলার মতো” করে।
মিল কতটা কাছাকাছি, সেটাও ঠিক করতে হয়। কোনো এক ধরনের ইশারা যেন সবকিছু দখল না করে, তাই আমি নোটগুলো এমন করি যাতে ভারসাম্য থাকে। আর কড়াকড়ির একটা সেটিং রাখি, বেশি কড়া হলে কিছুই মেলে না, ঢিলে হলে সবই মিলে যায়। কম্পিউটারও মিলের হিসাবকে এমনভাবে গুছিয়ে নেয়।
মেঝে ভরে গেলে কাজটা বদলে যায়। অল্প ছবিতে নিয়ম জমে না, বড় গাদায় প্রতিটা ছবির পাশে অনেক “প্রায় মিল” থাকে, চোখ শানিত হয়। শেষে নতুন ছবি এলেও অ্যালবাম ঠিকঠাক বসে যায়, আগের মতো শুধু নীল দেখেই ভুল করে না। একইভাবে কম্পিউটারও বেশি ছবি নিয়ে এই খেলাটা খেললে নতুন কাজেও কাজে লাগে।