সমতল ছাঁচ থেকে স্তরভরা দেহের ছবি
জাদুঘরের কাজঘরে কারিগরটা শক্ত সমতল ছাঁচ রেখে পাখির গা এক টানে এঁকে ফেলল। তারপর থামল। এবার একই পাখি সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনেকগুলো স্বচ্ছ পাতার স্তূপ হয়ে, প্রতিটায় শুধু হালকা এক টুকরো দাগ। সব কিনারা নতুন করে আঁকতে গেলে টেবিলটাই ভরে যাবে।
শরীরের ভেতরের স্ক্যানেও এমনই ঝামেলা। একেকটা ছবি সমতল, কিন্তু পুরো স্ক্যান হলো পাতার পর পাতা সাজানো স্তূপ। এখানে সেই সমতল ছাঁচটা হলো আগে থেকেই ছবির কিনারা ধরতে শেখা এক পুরনো ছবি-পাঠক, আর স্বচ্ছ পাতার স্তূপটা হলো স্তরভরা স্ক্যান। কাজে লাগে আগের শেখা চোখটাই।
এক পথে পুরনো সমতল সহায়কটাকে রাখা হলো যেমন ছিল, শুধু আগে একটা বাড়তি ধাপ যোগ করা হলো, যেন ছোট দাগগুলো চেপে না যায়। কারিগর যেমন ছাঁচে যাওয়ার আগে পুরো মাপের ঘষা কাগজ তুলে রাখে। হৃদয়ের আল্ট্রাসাউন্ড আর পেটের স্তর কেটে দেখা ছবিতে এই পথে কিনারা ধরাটা বেশ ভালো হলো।
আরেক পথে পুরো স্তূপটাকে আগে এক পাতার ইশারায় নামিয়ে আনা হলো। সেই পাতায় পুরনো সহায়কটা কাজ করল, তারপর তার পাওয়া ইশারা আবার সব স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া হলো। কারিগর যেন সব স্বচ্ছ পাতা মিলিয়ে এক গাইড পাতা বানাল, পরে সেই দাগ আবার পাতায় পাতায় ফিরিয়ে দিল। মস্তিষ্কের গাঁটের স্ক্যানে এটা শক্ত ফল দিল।
তৃতীয় পথে আরও সাহসী কাজ। এবার মাঝখানে সমতল সহায়ক ধার না নিয়ে পুরো স্তরভরা নতুন সহায়ক বানানো হলো, কিন্তু শুরুতে তার ভেতর বসানো হলো সেই পুরনো ছাঁচের শেখা হাত। যেন এক পাতলা ছাঁচ কপি করে ছোট্ট এক স্তূপ বানানো। এতে ভেতরের কঠিন অংশও একটু ভালো ধরা পড়ল, আর কাজও তাড়াতাড়ি শেষ হলো।
আগে ভাবা হতো, সমতল ছাঁচ সমতল কাজেই মানায়। এখন দেখা গেল, সেই একই শেখা চোখকে স্তরভরা কাজের ভেতর রাখা যায়, আবার চাইলে স্তরভরা শুরুও বানানো যায় তাকে দিয়ে। তাই কম আঁকা দাগ নিয়েও হৃদয়, যকৃত বা মস্তিষ্কের গাঁটের সীমানা বেশি ভরসা নিয়ে ধরা সম্ভব হতে পারে।