লকের ভেতরের ঢেউ দেখে যা বোঝা গেল, চোখে না দেখা আগুনের বলও তাই
ভোরে ভেজা কংক্রিটের ধারে দাঁড়িয়ে লক-রক্ষী দেখল, লকের ভেতর জল ঘুরছে। নৌকাগুলো ঢুকছে বেঁকে বেঁকে, কেউ আস্তে ঘুরছে, কেউ হঠাৎ পাশে সরে যাচ্ছে। জলের নিচের স্রোত দেখা যায় না, কিন্তু নৌকাই সব বলে দেয়।
খুব ছোট আর খুব দ্রুত ধাক্কাধাক্কির ভেতরেও এমনই হয়। ভেতরের চাপ আর আকার চোখে পড়ে না, শুধু শেষে যা বেরোয় সেটাই দেখা যায়। আগে অনেকে ভেবেছিল শুরু থেকেই সব শান্ত জলের মতো চলবে, কিন্তু প্রথম মুহূর্তটা লকের ভেতর নৌকা ঠোকাঠুকির মতো এলোমেলো।
এখন লোকজন পুরো ঘটনাটাকে লকের মতো তিন ধাপে ধরে। প্রথমে ঢোকা আর শক্তি ছড়ানো, জল ছিটকে ওঠে। তারপর মাঝের ধাপ, জল কিছু নিয়মে বয়ে যায়, কিন্তু ভেতরে ঘষা লেগে গতি কমে। শেষে গেট খুলে যায়, নৌকা বেরিয়ে ছোট ছোট ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পড়ে।
লক-রক্ষী জানে, ভালভ টানলেই জল সব জায়গায় একসাথে বদলায় না, চাপের খবর ছড়াতে সময় লাগে। সেই জন্য খুব দ্রুত ঘটনার জন্য এমন নিয়ম দরকার, যেখানে সাড়া দিতে একটু দেরি হয়। ওই ছোট দেরিটাই হিসাবকে স্থির রাখে, উল্টোপাল্টা ফল দেয় না।
একই ধরনের নৌকা এলেও প্রতিবার ঢোকা একরকম হয় না। কেউ একটু বাঁয়ে ঢোকে, কেউ দেরিতে আসে, দেয়ালে ধাক্কা খাওয়া ঢেউ দলটাকে ঠেলে দেয়। তেমনই শুরুতে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই শেষে কণার ছিটকে পড়ায় নানা রকম নকশা দেখা যায়, শুধু ডান-বাঁ চাপ নয়।
ছোট লকে জল কখনও পুরো শান্ত দেখায় না, তবু বেরোনোর ধরন দ্রুতই আন্দাজ করা যায়। ওই আগুনের বলও এমন, খুব তাড়াতাড়ি জলের মতো নিয়ম মানতে শুরু করতে পারে, যদিও ভেতরের ঠেলা সবদিকে সমান নয়। কিন্তু তারপর শুরুর এলোমেলোটা আর ওই ছোট দেরিটা ঠিকমতো ধরতে হয়।
লক-রক্ষী বেরোনোর গতি, কোন দিকে নৌকা বেশি সরে, বড়-ছোট নৌকার আচরণ মিলিয়ে লকের লুকোনো স্বভাব আন্দাজ করে, দেয়াল আর ভালভ জলকে কতটা টানে, চেম্বারটা একটু বেঁকে আছে কি না। তেমনই শেষে ধরা পড়া অনেক ইশারা মিলিয়ে বোঝা যায়, ওই কণা-ঝোলার ভেতরের ঘষা খুব কম, আর ধাপে ধাপে হিসাব রাখলেই কথাটা বিশ্বাসযোগ্য হয়।