অদৃশ্য ঝড় আর বাস্তব পৃথিবী
পাহাড়ের চূড়ায় প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক মুঠো গ্লিটার বা চকচকে গুঁড়ো উড়িয়ে দিলে কী হবে? মুহূর্তেই সব হারিয়ে যাবে। কিন্তু একটা ভারী লোহার খুঁটি পুঁতলে সেটা ঝড়ের ঝাপটা সয়েও দাঁড়িয়ে থাকে। ক্ষুদ্র কণার জগতটাও ঠিক এই ঝড়ের মতো।
আমাদের চারপাশের বাতাসকে ফাঁকা মনে হলেও আসলে তা ফোটন আর অণুর এক অদৃশ্য ঝড়। এই ঝড় অনবরত সবকিছুকে ধাক্কা দিচ্ছে। এই ধাক্কার কারণেই আমরা বাস্তবে কোয়ান্টাম কণার সেই গ্লিটারের মতো ছড়িয়ে পড়া রূপ দেখি না, শুধু স্থির বস্তুই দেখি।
এই ঝড় আসলে একটা ছাঁকনির কাজ করে। গ্লিটারের মতো নড়বড়ে অবস্থাগুলো বাতাসের ধাক্কায় সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যায়। পরিবেশ শুধু সেই অবস্থাগুলোকেই টিকিয়ে রাখে, যেগুলো ঝড়ের ঝাপটা সয়েও নিজের রূপ ধরে রাখতে পারে।
বাতাস শুধু দুর্বল জিনিস ধ্বংসই করে না, খবরও ছড়ায়। বাতাসের ঝাপটা লোহার খুঁটিতে লেগে যে ঢেউ তোলে, তা অনেক দূর পর্যন্ত যায়। দূরের কেউ সেই বাতাস অনুভব করেই বুঝতে পারেন ওখানে কিছু আছে। পরিবেশ এভাবেই তথ্যের হাজার হাজার কপি তৈরি করে।
তার মানে 'বাস্তবতা' কোনো বস্তুর একার গুণ নয়, বরং ঝড়ের সাথে তার সম্পর্কের ফল। কোনো কিছু তখনই আমাদের কাছে বাস্তব হয়ে ওঠে যখন তা পরিবেশের ওপর নিজের ছাপ ফেলার মতো যথেষ্ট শক্তপোক্ত হয়।