ছবিকে লাইন বানালে কোথায় গড়বড় হয়
জাদুঘরের কাজঘরে এক নারী বড় দেয়ালে ছোট ছোট বর্গাকার ছাপ টাঙাচ্ছিলেন। একটা খোপ বেখাপ্পা লাগতেই তিনি মেঝের গাদা নয়, দেয়ালের পাশের খোপগুলো দেখলেন। কারণ ছবির আসল পাশের সঙ্গী থাকে দেয়ালেই। ছোট কথা, ছবি লাইন নয়, খোপের জাল।
আগের অনেক তাড়াতাড়ি ছবি-পড়ুয়া ব্যবস্থা মেঝের খোলার তালিকা ধরেই চলত। দেয়ালের খোপগুলোকে এক লম্বা ফিতের মতো সাজালে নকল পাশের সঙ্গী জুটে যায়, আর ওপর-নিচের সত্যি সঙ্গীরা দূরে সরে যায়। লেখার লাইনে এটা মানায়, ছবিতে ঠিক বসে না।
নতুন কায়দাটা দেয়ালকে দেয়ালই রাখে, তবু গতি ধরে। প্রতিটি খোপ চাইলে পুরো দেয়াল থেকে খবর নিতে পারে, যেন তত্ত্বাবধায়ক একটু পেছনে গিয়ে সবটা একবারে দেখছে। কিন্তু একদম কাছের খোপগুলোর কথা বেশি ধরা হয়, কারণ ধার, নকশা, জিনিসের অংশ সাধারণত কাছাকাছিই টেনে চলে।
এখানেই আসল বুদ্ধি। খোপ কোন সারিতে, কোন কলামে আছে, সেই ইশারা আগে থেকেই ধরে রাখা হয়, যাতে দুই দিকের কাছাকাছি থাকা হারিয়ে না যায়। তারপর বারবার সব খোপকে সবার সঙ্গে মেলানো হয় না; ছোট ছোট জমা হিসাব রাখা হয়। তাই দেয়াল বড় হলেও কাজের চাপ হু হু করে বাড়ে না।
আরেকটা ঝামেলা ছিল প্রতিটি খোপের ভেতরের বাড়তি খুঁটিনাটি। সবটা কাঁধে নিয়ে ঘোরা ভারী। তাই মূল তুলনার জন্য হালকা আঁচড়ের মতো সারাংশ রাখা হয়, কিন্তু পাশে পাতলা এক গুচ্ছ আসল নোটও থাকে। ফলে কাজ হালকা হয়, আবার দরকারি দাগ-ছাপও উধাও হয় না।
ফলটা বেশ সোজা। এই দেয়াল-মানা কায়দা দ্রুতও থাকে, আবার একই মাপের অন্য দ্রুত ব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লাও দেয়, অনেক সময় এগিয়েও যায়। যে কায়দা ছবিকে মেঝের তালিকার মতো এক লাইনে নামিয়ে আনে, সেটা বড় হলে টলে যায়। দেয়ালকে দেয়াল ধরে রাখলেই গতি আর দেখার ক্ষমতা একসঙ্গে থাকে।