যে ক্যামেরা শুধু কাজের জিনিসটুকু দেখে
নদীর জলে দাঁড়িয়ে সোনা খুঁজছেন, এমনটা ভাবুন। আপনি নিশ্চয়ই বালতি ভরে পুরো নদীটা বাড়ি নিয়ে যাবেন না। বরং একটা ছাঁকনি দিয়ে কাদা আর জল ধুয়ে ফেলবেন, যাতে শুধু চকচকে দানাটুকু থাকে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়াই হলো আসল কৌশল।
কিন্তু আমাদের ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো ঠিক উল্টো কাজটা করে। ঘরে কেউ আছে কি না, এইটুকু বুঝতেও এরা লক্ষ লক্ষ পিক্সেলের ছবি তোলে। যেন পুরো নদীটাই তুলে আনল! এরপর কম্পিউটারকে সেই আবর্জনা ঘাঁটতে হয়, যার ফলে ব্যাটারি আর শক্তি দুটোই নষ্ট হয়।
নতুন এক ধরণের ক্যামেরা এই নিয়মটা বদলে দিয়েছে। এতে লক্ষ লক্ষ পিক্সেলের বদলে থাকে দশটারও কম বিশেষ ছিদ্র। একটা কালো পর্দার ওপর আঁকাবাঁকা এই ছিদ্রগুলো কিন্তু এলোমেলো নয়। আমরা যা খুঁজছি, ঠিক তার সাথে মিলিয়েই এগুলো তৈরি করা হয়।
আলো যখন ক্যামেরায় এসে পড়ে, কালো পর্দাটা দেয়ালের রঙ বা পেছনের জঞ্জালের মতো অপ্রয়োজনীয় 'কাদা' আটকে দেয়। শুধু দরকারি আলোটুকু ওই ছিদ্র দিয়ে সেন্সরে পৌঁছায়। কোনো চিপ বা প্রসেসর খাটার আগেই আলো নিজেই নিজেকে ছেঁকে ফেলে।
যেহেতু একে পুরো নদীর বোঝা বইতে হয় না, তাই এর শক্তিও খুব কম লাগে। এতটাই কম যে আলাদা কোনো ব্যাটারির দরকারই পড়ে না। ঘরের সাধারণ আলো থেকেই শক্তি নিয়ে এটি অনন্তকাল চলতে পারে।
এই পদ্ধতিতে গোপনীয়তাও রক্ষা পায় দারুণভাবে। যেহেতু মুখের খুঁটিনাটি বা ব্যক্তিগত তথ্য কাদার মতোই আগেই বাদ পড়ে যায়, তাই এই ক্যামেরা কাউকে চিনতে পারে না। এটি শুধু নড়াচড়া বুঝতে পারে, কিন্তু মানুষের চেহারা দেখে না।
আমরা প্রায়ই ভাবি, বেশি তথ্য মানেই বুঝি প্রযুক্তি বেশি স্মার্ট। কিন্তু এই নতুন কৌশল প্রমাণ করে দিল, কী বাদ দিতে হবে সেটা জানাই হলো আসল বুদ্ধিমত্তা।