রংহীন কাঁচের রহস্য
রোদেলা দুপুরে একজন কাঁচের কারিগর একটা পুরনো স্বচ্ছ কাঁচের টুকরো হাতে নিলেন। দেখে মনে হলো একদম সাদা ক্যানভাস। তিনি খাতা খুলে এটার "আসল" রং লিখে রাখতে চাইলেন। তাঁর ধারণা, কাঁচটা এখন যেমনই দেখাক, এর ভেতরে নিশ্চয়ই একটা নির্দিষ্ট রং আগে থেকেই ঠিক করা আছে।
তিনি খাতায় লিখলেন "রংহীন"। তাঁর বিশ্বাস, এই কাঁচের স্বভাব তার নিজের সাথেই থাকে, ঠিক যেমন মানুষের আঙুলের ছাপ। তিনি ধরে নিলেন, আমরা দেখি বা না দেখি, এই কাঁচের গুণাগুণ আগে থেকেই এর ভেতরে লেখা আছে।
কিন্তু যেই তিনি টুকরোটা একটা সোনালী কাঁচের ফ্রেমে বসালেন, ওটা টকটকে লাল হয়ে জ্বলে উঠল। অবাক হয়ে তিনি ওটা সরিয়ে নীল কাঁচের পাশে নিলেন। এবার সেটা গাঢ় সবুজ হয়ে গেল! তিনি বুঝলেন, রংটা কাঁচের ভেতরে আটকে নেই, বরং পাশের কাঁচের ওপর নির্ভর করে এটা পাল্টে যাচ্ছে।
তিনি ভাবলেন এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো গোপন নিয়ম আছে। তাই তিনি একটা গোল নকশা বানালেন যেখানে সব রং মিলেমিশে থাকার কথা। কিন্তু গোল চক্কর শেষ হতেই দেখা গেল রংগুলো আর মিলছে না, বরং উল্টোপাল্টা হয়ে যাচ্ছে। কোনো বাঁধাধরা নিয়মেই এই কাঁচের অদ্ভুত আচরণ ব্যাখ্যা করা গেল না।
কারিগর কলম নামিয়ে রাখলেন। তিনি মেনে নিলেন একটা অদ্ভুত সত্য: এই কাঁচের নিজস্ব কোনো রং নেই। এটা যখনই অন্য কিছুর সংস্পর্শে আসে, ঠিক তখনই এর রূপ তৈরি হয়। অর্থাৎ, কোনো বস্তুর গুণাগুণ আগে থেকে থাকে না, ঘটনার মুহূর্তেই সেটা জন্ম নেয়।
এই অদ্ভুত স্বভাবকে তিনি কাজে লাগালেন ভল্টের নিরাপত্তার জন্য। যেহেতু সঠিক ফ্রেমে না বসানো পর্যন্ত রংগুলো তৈরিই হয় না, তাই চোর ছবি তুলে নকশাটা চুরি করতে পারবে না। যা আগে থেকে নির্দিষ্ট নয়, তা নকল করাও অসম্ভব। এভাবেই একটা ধাঁধা হয়ে উঠল নিখুঁত নিরাপত্তার চাবিকাঠি।