প্রিন্টারের “সহায়ক” ফিচারটাই কেন দাগ ফেলেছিল
ছোট একটা প্রিন্টের দোকানে আমি বড় একটা মুখের পোস্টার ঢুকালাম। চেহারা প্রায় সত্যি, কিন্তু গালের জায়গায় ছোট ছোট ফোঁটার মতো দাগ উঠল, যেন স্বচ্ছ পাতার নিচে পানি আটকে আছে। স্ক্রিনে দেখি “অটো রং-সমতা” চালু।
ব্যাপারটা হলো ওই সমতা-ফিচারটা প্রতিটা রংকে আলাদা ধরে, সবাইকে একই জোরে টেনে আনে। ছবির দরকার ছিল এক রং একটু বেশি, আরেকটা কম। সেটাই চাপা পড়ে। তাই প্রিন্টার “চিট” করে কিছু জায়গায় হঠাৎ তীব্র রং ছোড়ে, আর পোস্টারে সেটা ফোঁটার দাগ হয়ে দেখা দেয়।
আমি সেটিং পাল্টালাম। কাগজে পড়া রং দেখে বারবার ঠিক করার বদলে, ভেতরের রোলার আর নোজলেই আগে থেকে রংয়ের জোর ঠিক করে দিলাম। তারপর উল্টো দিকের ছোট সমন্বয় রাখলাম, যাতে ফলটা স্থির থাকে। দাগগুলো হালকা হতে শুরু করল, কারণ লুকিয়ে সংকেত পাঠানোর সহজ রাস্তা আর থাকল না।
তারপর “লুক” স্লাইডারটা টানলাম। সামান্য টানলে সামান্য বদল হওয়ার কথা, হঠাৎ করে নাক-চোখ লাফিয়ে বদলালে চলে না। তাই একটা বাড়তি নিয়ম রাখলাম, যাতে ছোট ছোট নাড়াচাড়া বেশির ভাগ সময় ছোটই থাকে। এটা প্রতি মুহূর্তে মাপলে গতি কমে, তাই মাঝে মাঝে ক্যালিব্রেশন স্ট্রিপ ছাপার মতো করে চেক করি।
আগে আমরা ছোট একটা প্রুফ ছাপতাম, পরে বড় পোস্টারে যেতাম। শুনতে সুবিধা, কিন্তু এতে খুঁটিনাটি ভুল জায়গায় “আটকে” যেতে পারে। স্কেল বদলালেই কিছু টেক্সচার কাঁপা কাঁপা লাগে, যেন একই ঝিলিক বারবার নির্দিষ্ট জায়গা খোঁজে। এখন এক সেটআপেই বড়-ছোট সব স্তর একসাথে কাজ করে।
নতুন সেটআপে বোঝা গেল, বিশাল পোস্টারে সবচেয়ে সূক্ষ্ম ধাপটা কখনও ঠিকমতো নতুন খুঁটিনাটি আনছে না, শুধু আগেরটাই ধার দিচ্ছে। মানে ওই অংশে শক্তি কম। তাই সবচেয়ে সূক্ষ্ম ডট বসানোর জায়গায় বেশি “জায়গা” দিলাম, যেন ওই স্তরটা সত্যি কাজে লাগে।
একজন ক্রেতা পুরনো পোস্টার দেখিয়ে বলল, “এই দোকান থেকেই কি এটা বেরিয়েছিল?” এখন সেটা মিলিয়ে দেখা সহজ। একদিকে লুক সেটিং খুঁজে ছবিটা কাছাকাছি আনি, আরেকদিকে ছোট ছোট দানার মতো এলোমেলো দাগ আলাদা করে ঠিক করি, যাতে ওই দানাগুলো বড় আকার লুকিয়ে বহন করতে না পারে। একই প্রিন্টার, কিন্তু দাগ নেই, স্লাইডার মসৃণ, আর বড় স্কেলেও খুঁটিনাটি ঠিক জায়গায় থাকে।