সংখ্যার বদলে যখন গল্প বলে হিসাবের খাতা
এক নিস্তব্ধ জাদুঘরে একজন ইতিহাসবিদ প্রাচীন মাটির ফলক পরীক্ষা করছেন। সেখানে শুধু কিছু হিসাব আর তারিখ লেখা। শুধু এই সংখ্যাগুলো দেখে বোঝা কঠিন যে প্রাচীন সেই বণিক শীতের কঠিন সমুদ্রযাত্রা পার হতে পেরেছিলেন কি না। কিন্তু যখন এই হিসাবগুলোকে একটা ছোট গল্পে সাজানো হয়, তখন বিপদের আঁচ স্পষ্ট বোঝা যায়। ঠিক এই পদ্ধতিতেই এখন আর্থিক খাতের ঝুঁকি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বছরের পর বছর ধরে ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপি বা জালিয়াতি ধরার জন্য শুধু ছকে বাঁধা সংখ্যার ওপর নির্ভর করত। তারা হিসাবের খাতায় থাকা বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য মেলাতে চাইত। কিন্তু এতে বড় চিত্রটা চোখের আড়ালেই থেকে যেত। ব্যাপারটা হলো, শুধু শস্যের দাম দেখে তো আর বোঝা যায় না যে সেবার কেমন খরা হয়েছিল।
নতুন একটি উপায়ে এই পুরো ছকটাই বদলে ফেলা হয়েছে। এখন আর যন্ত্রকে শুধু নীরস স্প্রেডশিট পড়তে দেওয়া হয় না। তার বদলে গ্রাহকের হিসাবের সংখ্যাগুলোকে সাধারণ ভাষার একটা ছোট বর্ণনায় রূপান্তর করা হয়। ছকে বাঁধা প্রাণহীন তথ্যগুলো যেন প্রতিদিনের কথায় লেখা একটা জীবন্ত জীবনবৃত্তান্ত হয়ে ওঠে।
ইতিহাসবিদের লেখা গল্পের মতোই এই নতুন পদ্ধতি খুব সহজে ঝুঁকির দিকগুলো সামনে নিয়ে আসে। যখন তথ্যগুলো বিচ্ছিন্ন সংখ্যার বদলে সাধারণ বাক্যে লেখা থাকে, তখন জালিয়াতির ছোটখাটো লক্ষণগুলোও সহজে ধরা পড়ে। আর সব ধরনের হিসাবকে এক ভাষায় রূপান্তর করার ফলে যন্ত্র খুব দ্রুত অনেক কিছু শিখতে পারে।
শুধু সংখ্যার বদলে ভাষার এই ব্যবহার পুরোনো সব হিসাবের পদ্ধতিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। মানুষের জটিল আচরণ বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় শুধু খাতায় হিসাব মেলানো নয়। বরং তাদের জীবনের গল্পটা পড়তে পারলেই তাদের সম্পর্কে সবচেয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।