অন্ধকার পানিতে ডুবে যাওয়া ভাসা যখন আলো হারায়
রাতের হ্রদে একটা ছোট নৌকায় বসে আছে একজন মাছ ধরিয়ে। পানিতে সারি সারি ভাসা, প্রতিটায় ছোট্ট আলোর কাঠি লাগানো। মাছ টান দিলে ভাসা নড়ে, আলো দেখে বোঝা যায়। কিন্তু পানি একদম শান্ত থাকলে কোনো কোনো ভাসা চুপচাপ ডুবে যায়, আলো পুরো নিভে যায়। মাছ ধরিয়ে তাকিয়ে থাকে অন্ধকার পানির দিকে, কোনো সংকেত নেই।
তিন রকম ভাসা আছে। একটা পানির নিচে গেলেই আলো একদম বন্ধ। আরেকটা ধীরে ধীরে ম্লান হয়। তৃতীয়টা গভীরেও ক্ষীণ আলো ধরে রাখে। প্রথম ধরনের ভাসা দিয়ে জটিল পরিস্থিতিতে সফলতা অনেক কমে যায়, তৃতীয়টা দিয়ে অনেক ভালো হয়।
একটা সমাধান চেষ্টা করা হলো, ভুল জায়গায় ভাসা দেখলে সেটা টেনে সরিয়ে নেওয়া। কিন্তু ডুবে যাওয়া ভাসাগুলো তো আগে থেকেই অদৃশ্য। ভুল ভাসা সরালে ডুবে থাকা ভাসা আবার ভেসে ওঠে না। বরং জোরে টানাটানি করলে আরো বেশি ভাসা ডুবে যায়।
আসল সমাধানটা সোজা। ডুবে যাওয়া ভাসায় একটা ছোট উদ্ধার-ভেলা বেঁধে দাও। ভেলা ভাসাটাকে আস্তে আস্তে ওপরে টেনে আনে, আলো ফিরে আসে। ভাসা নিজে ভাসতে শুরু করলে ভেলা আপনা থেকে খুলে যায়। যত গভীরে ডুবে থাকে, ভেলার টান তত জোরালো।
ভাসার নকশাতেও একটা চালাকি আছে। যে ভাসা গভীরেও আলো রাখে, সেটা অগভীর পানিতে এত উজ্জ্বল হয়ে যায় যে পাশের ভাসার আলো চাপা পড়ে। তো একটা মিশ্র ভাসা বানানো হলো, পানির নিচে শক্তিশালী আলো, ওপরে সমান গতিতে উজ্জ্বল হয়। দুই দুনিয়ার সেরাটা একসাথে।
উদ্ধার-ভেলা আর মিশ্র ভাসা নিয়ে মাছ ধরিয়ে আবার হ্রদে নামল। শান্ত রাতে সব পদ্ধতিই মোটামুটি কাজ করে। কিন্তু ঝড়ো রাতে শত রকম মাছ যখন একসাথে কামড় দেয়, পুরনো ভাসায় সাফল্য খুবই কম, নতুন সেটআপে অনেক বেশি। সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাসাগুলোর সংকেত প্রায় সবসময় সঠিক।
এই উদ্ধার-ভেলার কৌশল শুধু মাছ ধরায় না, যেকোনো জায়গায় কাজ করে যেখানে একই ভাসা-আলো ব্যবস্থা চলে। মূল কথাটা এই, যখন কোনো ব্যবস্থা নিজের আত্মবিশ্বাস মাপে, একটা লুকানো অন্ধকার অঞ্চল থাকে যেখানে সে বধির হয়ে যায়। ছোট্ট একটা ঠেলা সেই বধিরতা সারিয়ে দেয়।