জীবনের ইঞ্জিন সারাইয়ের জাদুকরী টুল
ভাবুন একজন মিস্ত্রি একটা বিশাল জটিল ইঞ্জিন সারাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, ইঞ্জিনের একেকটা নাট খোলার জন্য তাঁকে কামারশালায় গিয়ে একেকটা নতুন ভারী লোহার রেঞ্জ বানাতে হচ্ছে। এই পুরনো পদ্ধতিতে কাজ এগোচ্ছে খুব ধীরগতিতে, কারণ প্রতিবার সামান্য সারাইয়ের জন্যও তাঁকে শুরু থেকে একটা আস্ত নতুন যন্ত্র তৈরি করতে হয়।
হঠাতই তাঁর ওয়ার্কশপে একটা দারুণ বদল এল। প্রতিবার নতুন লোহার টুল বানানোর বদলে তিনি পেলেন একটা ‘পাওয়ার ড্রাইভার’ (Cas9 প্রোটিন)। এটা আসলে অন্য এক কারখানার (ব্যাকটেরিয়া) জন্য তৈরি ছিল, কিন্তু ইঞ্জিনিয়াররা এর প্লাগটা একটু বদলে দিয়েছেন যাতে এটা আমাদের এই গ্যারেজেও (মানুষের কোষ) ঠিকঠাক চলে।
আসল জাদুটা হলো এর বদলানো যায় এমন ছোট ছোট ‘টিপ’ বা ফলাগুলোতে। মিস্ত্রি এখন শুধু একটা সস্তা ও হালকা ফলা (গাইড আরএনএ) ড্রাইভারের মুখে আটকে দেন, যা ঠিক ওই নির্দিষ্ট নাটের মাপের। ভারী মেশিনটা শক্তি যোগায়, আর ওই ছোট্ট ফলাটা ম্যাপের মতো কাজ করে তাকে সঠিক জায়গায় (ডিএনএ) নিয়ে যায়।
এই ব্যবস্থায় কাজের গতি অবিশ্বাস্য বেড়ে গেল। যেহেতু মূল যন্ত্রটা একই থাকে, তাই মিস্ত্রি পকেটে একমুঠো আলাদা আলাদা ফলা নিয়ে ইঞ্জিনের সামনে দাঁড়াতে পারেন। এক বিকেলেই তিনি অনেকগুলো ভাঙা অংশ ঠিক করে ফেলেন, যেখানে আগে লাগত বছরের পর বছর। গাইড টিপটা বদলালেই নতুন কাজের জন্য যন্ত্র তৈরি।
ইঞ্জিনের খুব স্পর্শকাতর অংশগুলোর জন্য একটা ‘সেফটি মোড’ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আছে। জোরে ফুটো করে আশেপাশের ধাতু ফাটানোর বদলে, এই টুলটা খুব সাবধানে একটা ছোট্ট আঁচড় কাটে। এতে ইঞ্জিন নিজেই কোনো ঝুঁকি ছাড়াই সেই জায়গাটা সুন্দরভাবে মেরামত করে নেওয়ার সুযোগ পায়।
সবার সুবিধার্থে বিজ্ঞানীরা হাজার হাজার নাটের মাপের ফলার একটা বিশাল ক্যাটালগও তৈরি করেছেন। যেটা আগে ছিল একটা ভারী ও কঠিন পরিশ্রমের কাজ, সেটা এখন হয়ে গেছে খুব গোছানো এক শিল্প। জীবনের এই জটিল কোড এখন খুব সহজেই, দ্রুত আর নিখুঁতভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব।