ঝড়ের রাতে অচেনা কম্পাস
গভীর রাতে সাগরের মাঝখানে গবেষণা জাহাজটা ঝড়ের কবলে পড়েছে। ক্যাপ্টেন প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তীরের সাথে ডাটা লিংক ঠিক রাখতে, কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ে জাহাজ এত দুলছে যে সিগন্যাল বারবার কেটে যাচ্ছে। ঠিক যেমন কোয়ান্টাম তথ্যের সূক্ষ্ম প্রবাহ একটু নড়াচড়াতেই বা 'নয়েজ'-এ নষ্ট হয়ে যায়।
সমস্যাটা অনেকটা সাধারণ কম্পাসের মতো। ভাবুন একটা চ্যাপ্টা কাঁটা পিনের ওপর ভাসছে। শান্ত সাগরে এটা ঠিকঠাক কাজ করে। কিন্তু জাহাজ যদি খুব বেশি কাত হয়ে যায়, কাঁটাটা কাঁচে আটকে যায়। এর ভারসাম্য রাখার ক্ষমতা মাত্র দুই দিকে সীমাবদ্ধ, তাই ত্রিমাত্রিক ঝড়ের ধাক্কা এটা সামলাতে পারে না।
ইঞ্জিনিয়াররা এবার একটা নতুন যন্ত্র চালু করলেন, যার মূলে আছে 'কোয়াটারনিয়ন' (Quaternions)। এটা সাধারণ চ্যাপ্টা কাঁটা নয়, বরং একটা জাইরোস্কোপ যা চুম্বকীয় ক্ষেত্রের মধ্যে ভাসছে। এর ঘোরার জন্য চারটে আলাদা অক্ষ আছে। সাধারণ দিকের বাইরেও এর আরো দুটো 'লুকানো' রিং আছে, যা একে নড়াচড়ার বাড়তি স্বাধীনতা দেয়।
হঠাৎ একটা বিশাল ঢেউ এসে জাহাজটাকে মোচড় দিয়ে দিল। সাধারণ কম্পাস হলে এখনই আটকে যেত। কিন্তু এই নতুন যন্ত্রটা জ্যাম হলো না। ধাক্কাটা সামলাতে এটা ওই বাড়তি 'লুকানো' রিংগুলোর দিকে ঘুরে গেল। ঝড়ের বিশৃঙ্খল শক্তিটা শুষে নিয়েও নিজের কেন্দ্র ঠিক রাখল।
যন্ত্রের সেন্সরগুলো এই অদ্ভুত ঘূর্ণনটা ধরে ফেলল। যেহেতু এর বাড়তি মাত্রা বা ডাইমেনশন আছে, তাই এটা জাহাজের আসল গতি আর ঝড়ের ধাক্কার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। গাণিতিকভাবে হিসাব করে দেখা গেল কতটা বাড়তি রিং ঘুরেছে, আর সেই অনুযায়ী উল্টো প্যাঁচ দিয়ে ভুলটা শুধরে নেওয়া হলো।
মুহূর্তের মধ্যে ডাটা লিংক আবার স্থির হয়ে গেল। বাইরে যতই ঝড় থাকুক, সিগন্যাল এখন একদম পরিষ্কার। ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য আমরা যখন আরো কয়েকটা মাত্রা বা ডাইমেনশন যোগ করি, তখন একটা ঠুনকো যোগাযোগও ভাঙা অসম্ভব হয়ে পড়ে।