একটা বাসকার্ডে ধরা পড়ল পুরো দেরির গল্প
ভিড় ঠেলে বাসটা স্টপ ছাড়তেই ঝাঁকুনি দিল, দেরি তো হয়েই গেছে। ড্রাইভার বলল, “সময়টা কোথায় গেল?” সে একটা যাত্রীকার্ডে ছোট ছোট সিল মারতে লাগল, যেখানে যেখানে কাজ হাতবদল হয়। অনলাইনে একটা ক্লিকও ঠিক এভাবেই অনেক জায়গা ঘুরে যায়, আর এই সিলগুলো সেই যাত্রার ছোট সময়চিহ্ন।
সিল না থাকলে খবরগুলো ছড়ানো-ছিটানো। এক স্টপ বলে বাস দেরিতে এল, আরেকটা বলে উঠতে সময় লেগেছে, ব্রিজের পাশে জ্যাম ছিল। কিন্তু কোনটা আগে, কোনটা পরে, একসাথে দেখা যায় না। অনলাইন সেবাতেও এক জায়গার ছোট দেরি দূরে গিয়ে বড় অপেক্ষা বানায়।
নতুন কাজটা হলো সিল মারা যেন আলাদা করে মনে রাখতে না হয়। শহর সিলের জায়গা ঢুকিয়ে দিল সেই যন্ত্রে যেটা সবাই এমনিতেই ছোঁয়, টিকিট মেশিন, রেডিও বার্তা, স্টপের সাধারণ ফর্ম। অনলাইনে একইভাবে সময়চিহ্ন বসানো হয় সেই ভাগগুলোতে যেগুলো অনেক প্রোগ্রাম আগেই ব্যবহার করে, তাই সবাইকে নিজেরটা পাল্টাতে হয় না।
কার্ডটা এবার শুধু লম্বা দাগ না, গাছের মতো হয়ে গেল। একটা বড় সিল পুরো ট্রিপ, তার নিচে ছোট সিল লাল বাতি, যাত্রী তোলা, ব্রিজ পার, ডিসপ্যাচে কথা। স্টপের ঘড়ি মিল না খেলেও ক্রমটা ঠিক থাকে, বাস আগে ছাড়বে, তারপরই তো পরের স্টপে পৌঁছাবে। মিলটা সোজা, একটা যাত্রা, তার ভেতরে অনেক ছোট কাজ।
শহর নিয়মও বেঁধে দিল। স্টপ চাইলে ছোট নোট যোগ করতে পারে, যেমন হুইলচেয়ার উঠল বা রাস্তায় কাজ চলছে, কিন্তু নোট দিয়ে কার্ড ভরে ফেলার সুযোগ নেই। অনলাইন দিকেও দলগুলো বাড়তি টুকিটাকি লিখতে পারে, কিন্তু সীমা থাকে, যাতে মূল সময়চিহ্ন আর গাছের গঠন চাপা না পড়ে।
বাস যেন আরও ধীর না হয়, ড্রাইভার ট্রিপ চলাকালীন প্রতিটা সিল সদর দফতরে পাঠায় না। পরে এক শান্ত অফিসে অনেক কার্ড একসাথে গুছিয়ে রাখা হয়, দরকার হলে একটা ট্রিপ টেনে বের করা যায়। অনলাইনেও চিহ্ন আগে নিজের কাছে জমে, পরে আলাদা পথে পাঠানো হয়, দেখা-শোনা করতে গিয়ে কাজটা আটকে যায় না।
সব বাসে সব কার্ডে সিল পড়ে না, তাহলে কাজ বেড়ে যাবে। কিছু কার্ড বেছে নেওয়া হয়, আর দরকার হলে হার বাড়ানো-কমানো যায়, যাতে ফাঁকা রুট থেকেও নমুনা মেলে। অফিসে গিয়ে আবার ঠিক করা যায় কোন কোন পুরো কার্ড রাখা হবে, একেকটা ট্রিপকে মাঝপথে কেটে ফেলা হয় না।
কয়েকদিন পরে সুপারভাইজার একটা সিল-ভরা কার্ড খুলে দেখল, একই ছক বারবার ফিরছে। ব্রিজ পেরোনোর পর ডিট্যুর আর একটু মিশে যাওয়ার জায়গায় সময় গিলে খাচ্ছে। আগে সবাই আলাদা আলাদা দোষ ধরত, এখন এক কার্ডেই পুরো হাতবদলের শিকল দেখা যায়, তাও রুটকে বাড়তি বোঝা না দিয়ে।