মস্তিষ্কের জলাভূমিতে আসল সংকেতের খোঁজ
ভোরের জলাভূমিতে বসে কেউ হয়তো একটি বিরল পাখির ডাক খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের মাইক বারবার ভুল করছে। পাখিটি যখন ডাকে, তখন হয়তো বাতাসও বয়। তাই যন্ত্রটি বাতাসের শব্দকেই পাখির ডাক ভেবে বসে। আমাদের মস্তিষ্কও ঠিক এই জলাভূমির মতো। চিকিৎসকরা যখন কম্পিউটারের সাহায্যে বিষণ্ণতার মতো সমস্যা খুঁজতে যান, তখন যন্ত্রগুলো আসল কারণ না বুঝে চারপাশের অদরকারি কোলাহলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
ব্যাপারটা হলো, পুরোনো পদ্ধতিগুলো মস্তিষ্কের সব জায়গা একসাথে দেখে আর আন্দাজে একটা সিদ্ধান্ত নেয়। ধরুন, বিষণ্ণতার সময় মস্তিষ্কের এমন একটা জায়গা সক্রিয় হলো যার সাথে রোগের কোনো সম্পর্কই নেই। কিন্তু যন্ত্রটি ভাবল, ওটাই হয়তো আসল কারণ। ঠিক যেমন বাতাসের শব্দ শুনে পাখির উপস্থিতির ভুল প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে আসল সমস্যাটা চিকিৎসকদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।
এই সমস্যা মেটাতে নতুন এক ধরনের ছাঁকনি তৈরি করা হয়েছে। এটি মস্তিষ্কের এই জটিল সংকেতগুলোকে পুরোপুরি দুটো আলাদা ভাগে ভাগ করে দেয়। এক ভাগে থাকে রোগের আসল কারণ, আর অন্য ভাগে থাকে চারপাশের সেই অদরকারি কোলাহল। ঠিক যেন একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার প্রবল বাতাসের শব্দের ভেতর থেকে শুধু পাখির ডাকটুকু আলাদা করে নিচ্ছেন।
এরপর এই ছাঁকনিটি একটা কড়া নিয়ম মেনে চলে। রোগ নির্ণয়ের সময় সে শুধু আসল কারণের ভাগটিকেই কাজে লাগায়। কোলাহলের ভাগটাকে সে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেয়। চারপাশের এই বিভ্রান্তিকর শব্দগুলোকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার ফলে, মস্তিষ্কের ঠিক কোন সংযোগগুলো বিষণ্ণতার জন্য দায়ী, তার একটা পরিষ্কার ছবি ফুটে ওঠে।
বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন মানুষদের মস্তিষ্কের স্ক্যান নিয়ে যখন এটি পরীক্ষা করা হলো, তখন পার্থক্যটা ছিল দারুণ। পুরোনো পদ্ধতিগুলো মস্তিষ্কের পেছনের একটা অপ্রয়োজনীয় অংশকে দোষ দিচ্ছিল, ঠিক সেই জলাভূমির যন্ত্রের মতো যা বাতাসে ধোঁকা খেয়েছিল। কিন্তু নতুন ছাঁকনিটি সেই ভুল সংকেত এড়িয়ে মস্তিষ্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল কারণগুলো ঠিকঠাক খুঁজে বের করেছে।
এই আসল যোগাযোগগুলো চোখের সামনে আসায় চিকিৎসকরা এখন মস্তিষ্কের ভেতরের কাজকারবারের একটা নির্ভরযোগ্য মানচিত্র পাচ্ছেন। তো, ঠিক একই কৌশল এখন জটিল অণুগুলোর গঠন বুঝতেও কাজে লাগছে। কোলাহল থেকে আসল সংকেত আলাদা করার এই উপায়টি আমাদের চারপাশের লুকিয়ে থাকা অনেক অজানা কাঠামোকে অবশেষে আলোর সামনে নিয়ে আসছে।