অসীম পালের কারিগর
এক পাল তৈরির কারিগর একটা অদ্ভুত কাজ পেলেন। তাকে এমন এক বিশাল পাল বানাতে হবে যা দিয়ে জাহাজ অনন্তকাল চলতে পারে। সমস্যা হলো, তার ঘরটা খুব ছোট। সাধারণত এত বড় পাল খুলতে গেলেই জট পেকে যায়, আর কাজ শেষ করার আগেই হাল ছেড়ে দিতে হয়।
প্রথম বাধাটা হলো সুতোর টান ঠিক রাখা। সাধারণ পালের ক্ষেত্রে কারিগর সহজেই সব সুতোর মাপ মেলাতে পারেন। কিন্তু এই পালটা মাইলের পর মাইল লম্বা। একটা সুতো ঠিক আছে কি না দেখতে তাকে সারাদিন শুধু হাঁটাহাঁটিই করতে হয়, সেলাই করার সময় আর থাকে না।
এই ঝামেলা এড়াতে তিনি একটা নতুন বুদ্ধি বের করলেন। সুতো মেলানোর জন্য পুরো ঘর না হেঁটে তিনি একটা বিশেষ ঢাল ব্যবহার করলেন। সুতোর ধরন অনুযায়ী সেটা পিছলে নির্দিষ্ট ঝুড়িতে গিয়ে পড়ে। এখন তাকে হাজার হাজার সুতো না দেখে শুধু ওই ছোট ঝুড়ির সুতোগুলোর সাথেই মেলাতে হয়।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো নকশার কাগজের স্তূপ। প্রতিটা সেলাইয়ের হিসাব রাখতে তাকে কাগজে ছবি এঁকে রাখতে হতো, যাতে ভুল হলে শুধরানো যায়। কিন্তু পাল যত বড় হতে লাগল, কাগজের স্তূপ পালের চেয়েও ভারী হয়ে গেল। ঘর এমন ভরে গেল যে নড়াচড়ার জায়গাই রইল না।
তখন তিনি কাগজ ছাড়াই কাজ করার উপায় খুঁজে পেলেন। তিনি এমন এক বিশেষ গিঁট আবিষ্কার করলেন যার মধ্যেই আগের গিঁটের সব হিসাব লুকিয়ে থাকে। কাপড় নিজেই তার ইতিহাস মনে রাখে, তাই আলাদা করে নকশা এঁকে রাখার আর দরকার পড়ে না।
সুতোর ঝুড়ি আর এই বিশেষ গিঁটের জাদুতে কারিগর তার ছোট টেবিলেই বিশাল পালের কাজ শেষ করলেন। আসলে বিশাল কিছু সামলানোর জন্য বড় ঘরের দরকার হয় না, দরকার শুধু কাজটা গুছিয়ে করার সঠিক পদ্ধতি।