কুয়াশার গোলকধাঁধায় দিক নির্ণয়
ধরুন আপনি এক ঘন কুয়াশার সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে দিক চেনা অসম্ভব। হাতে একটা সাধারণ কম্পাস, যার কাঁটা ঠিক উত্তরে স্থির। এই দিকটাই আপনাকে মনে রাখতে হবে, কিন্তু মুশকিল হলো এই কুয়াশা সব সংকেত গিলে ফেলে আর ভেতরে কী আছে তা বোঝার উপায় রাখে না।
কুয়াশার ভেতরের ঝড় এত তীব্র যে আস্ত কম্পাস নিয়ে ঢুকলে কাঁচ ভেঙে কাঁটা ঘুরে যাবে। দিকটা তখন চিরতরে হারিয়ে যাবে। তাই তথ্যটা বাঁচাতে হলে আপনাকে অদ্ভুত একটা কাজ করতে হবে। ভেতরে যাওয়ার আগেই কম্পাসটা খুলে ফেলতে হবে, যাতে ওটা নষ্ট না হয়।
আপনি যন্ত্রটা খুলে চুম্বক কাঁটাটা কুয়াশার ঠিক সীমানায় নিরাপদে গেঁথে রাখলেন। তারপর শুধু খালি পিতলের খোলটা নিয়ে কুয়াশার গভীরে হেঁটে গেলেন। এখন আর কম্পাসটা একটা আস্ত জিনিস নয়, ওটা দুই টুকরো হয়ে আলাদা হয়ে গেল।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে দিকটা হারিয়ে গেছে। সীমানায় থাকা কাঁটাটা অন্ধের মতো ঘুরছে, আর আপনার হাতের খোলটা তো ফাঁকা। আসলে 'উত্তর' দিকটা এখন আর কোনো এক টুকরোর মধ্যে নেই, ওটা দুই টুকরোর মাঝের অদৃশ্য সম্পর্কে লুকিয়ে আছে।
শেষে কুয়াশা সরতে শুরু করলে খালি খোলটা ফিরে এসে কাঁটার সাথে জোড়া লাগল। সাথে সাথে কাঁটাটা আবার উত্তরে ঘুরে গেল। ঠিক এভাবেই মহাজাগতিক গহ্বরেও তথ্য ধ্বংস হয় না, বরং দুই টুকরোর সংযোগের মধ্যে বেঁচে থাকে।