তাঁতির অসীম নকশা
একজন দক্ষ তাঁতি বিশাল এক নকশা বুনছিলেন। কিন্তু তাঁর তাঁতের ফ্রেমটা ছোট, তাই একবারে অল্প একটু অংশই দেখা যায়। যখনই তিনি বোনা অংশটা গুটিয়ে নতুন সুতো লাগান, আগের নকশাটা চোখের আড়ালে চলে যায়। তিনি চাইলেও আর মিলিয়ে দেখতে পারেন না।
এর ফলে নকশায় একটা বড় খুঁত থেকে যায়। আগের সুতোগুলো দেখতে না পাওয়ায় তিনি আন্দাজে কাজ করেন। এতে নকশার মাঝে মাঝে জোড়াতালির দাগ পড়ে যায়, যেন পুরো ছবিটা খাপছাড়া হয়ে গেছে। প্রতিবার ফ্রেম বদলানোর সময় তাঁকে নতুন করে ভাবতে হয়।
এই সমস্যা মেটাতে তিনি এক নতুন বুদ্ধি বের করলেন। বোনা অংশটা পুরোটা না গুটিয়ে, তিনি শেষ প্রান্তের কিছু সুতো নতুন ফ্রেমের সাথে লাগিয়ে রাখলেন। এই 'পুরানো সুতো'র সাথে গিট বেঁধে তিনি নতুন কাজ শুরু করলেন, যাতে নকশার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
কিন্তু এতে আরেক ঝামেলা হলো। তিনি সাধারণত উপর থেকে সুতো গুনতেন, যেমন 'পাঁচ নম্বর লাইন'। এখন পুরানো আর নতুন সুতো এক জায়গায় থাকায় তিনি গুলিয়ে ফেললেন যে আসলে কোন লাইনটা ধরতে হবে। হিসাবটা আর মিলছিল না, সব জট পাকিয়ে যাচ্ছিল।
তখন তিনি গোড়ার দিক থেকে গোনা বাদ দিলেন। এর বদলে তিনি নিজের হাতের অবস্থান থেকে মাপা শুরু করলেন, যেমন 'এখান থেকে তিন ঘর পেছনে'। এখন ফ্রেমের কোথায় আছেন সেটা আর জরুরি রইল না, যেকোনো জায়গাতেই এই নিয়ম খাটে।
এই দুই কায়দা মিলিয়ে তিনি যখন পুরো কাপড়টা খুললেন, দেখা গেল সেটা মাইলের পর মাইল জুড়ে নিখুঁত। কোথাও কোনো জোড়াতালি নেই, নকশাটা পানির মতো বয়ে গেছে। বারবার থামতে হয়নি বলে কাজটাও শেষ হলো অনেক দ্রুত।