স্মৃতি ও যন্ত্রের নাবিক
জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে এক তরুণ নাবিককে দেখুন। সে সমুদ্রের প্রতিটি ঢেউ আর পুরনো গল্পের কথা মুখস্থ বলতে পারে। তার স্মৃতিশক্তি অসাধারণ, যেন সাগরের সব মানচিত্র তার মাথাতেই আঁকা আছে।
সমস্যা হলো যখন ক্যাপ্টেন সঠিক হিসাব চান। যেমন ঠিক কতটা তেল লাগবে বা জোয়ারের সঠিক সময়। নাবিক আন্দাজে উত্তর দেয়, কিন্তু স্মৃতি তো আর ক্যালকুলেটর নয়, তাই প্রায়ই ভুল হয়ে যায়।
এই ভুল শুধরাতে তাকে ঘড়ি আর ক্যালকুলেটর দেওয়া হলো। প্রথমে সে সব কিছুতেই যন্ত্র ব্যবহার করতে শুরু করল। সাধারণ হাই-হ্যালো বলতেও সে ক্যালকুলেটর বের করে বসে, যা এক অদ্ভুত জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলে।
তখন সে একা একা প্র্যাকটিস শুরু করল। সে একবার নিজের মন থেকে পথের হিসাব করে, আরেকবার যন্ত্র দিয়ে। তারপর মিলিয়ে দেখে কোনটায় সে গন্তব্যের বেশি কাছে পৌঁছাতে পারছে।
সে একটা দারুণ ব্যাপার বুঝল। যদি মনের উত্তর আর যন্ত্রের উত্তর এক হয়, তবে যন্ত্রের দরকার নেই। সে শিখল ঠিক কোন কঠিন অঙ্ক বা তথ্যের জন্য তার স্মৃতি দুর্বল আর যন্ত্রের সাহায্য জরুরি।
এখন কঠিন প্রশ্ন এলে সে চট করে যন্ত্রটা দেখে নেয়, তারপর উত্তর দেয়। সে আর ভুল তথ্য বানায় না, বরং গল্পের মাঝে খুব স্বাভাবিকভাবেই যন্ত্রের সঠিক তথ্য জুড়ে দেয়।
জাহাজ এখন নির্ভুল পথে চলছে। আমাদের আসলে আরও বড় স্মৃতির নাবিক দরকার ছিল না। দরকার ছিল এমন একজনের, যে জানে কখন নিজের ওপর ভরসা না করে যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়।