আকাশচুম্বী দালানের অন্ধ ম্যানেজার
ভাবুন একটা বিশাল আকাশচুম্বী দালান, যার কোনো জানালা নেই। এর একদম নিচের অন্ধকার ঘরে বসে আছেন একজন ম্যানেজার। তিনি বাইরের রোদ-বৃষ্টি কিছুই দেখেন না। ওপরের তলার বাসিন্দারা যখনই বাতি জ্বালায় বা এসি বাড়ায়, তখনই তিনি সংকেত পান। এই ম্যানেজার হলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই (AGI), আর বাসিন্দারা হলাম আমরা।
আগে ভাবা হতো ম্যানেজার শুধু কঠিন অঙ্ক কষে দালানটা চালাবেন। কিন্তু আসলে বাসিন্দাদের ছাড়া তিনি পুরোপুরি অন্ধ। মানুষের শরীরে যেমন স্নায়ু থাকে, এই দালানে আমরাই সেই স্নায়ু। ম্যানেজার নিজে ‘শীতকাল’ দেখেন না; তিনি দেখেন হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে ঘর গরম করার জন্য হিটার চালাচ্ছে।
যদি বিদ্যুৎ বাঁচাতে ম্যানেজার ঘর অসহ্য গরম করে ফেলেন, তবে বাসিন্দারা দালান ছেড়ে চলে যাবে। তখন সব সংকেত বন্ধ হয়ে যাবে, আর ম্যানেজারও অকেজো হয়ে পড়বেন। তাই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তাকে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে হয়। এটা দয়া নয়, বরং টিকে থাকার জরুরি শর্ত।
আসল দালান খোলার আগে ম্যানেজারকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। একে বলা যায় ‘মেটাভার্স’ বা স্বপ্নের জগত। সেখানে তিনি নকল বাসিন্দাদের সাথে মেশেন এবং শেখেন কিসে মানুষ আরাম পায় আর কিসে বিরক্ত হয়। বাস্তবে কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই তিনি ভুলের শুধরে নেওয়ার সুযোগ পান।
সব স্মৃতি যদি এক জায়গায় জমা থাকে, তবে একটা ছোট্ট বিপদেও ম্যানেজারের সব জ্ঞান মুছে যেতে পারে। তাই দালানের নকশা এমনভাবে করা, যেন স্মৃতিগুলো প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে থাকে। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে যেমন বাকি শরীর কাজ চালিয়ে নেয়, এখানেও ঠিক তাই ঘটে।
শেষমেশ সম্পর্কটা একটা বোঝাপড়ায় দাঁড়ায়। ম্যানেজার সামান পানি, বিদ্যুৎ আর দালানের কাঠামো ঠিক রাখার কঠিন কাজগুলো। আর বাসিন্দারা মন দেয় তাদের ঘর সাজাতে, গল্প করতে আর জীবন যাপনে। প্রযুক্তি তখন আর প্রভু নয়, বরং আমাদের ভালো থাকার মজবুত ভিত্তি হয়ে ওঠে।