পাথরের ম্যাপ আর প্লাস্টিকের পর্দা
শহরের নকশাকার বিশাল এক পাথরের টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে। এতে শহরের প্রতিটি অলিগলি নিখুঁতভাবে খোদাই করা। হঠাৎ মেয়র নির্দেশ দিলেন, বন্যার জল বের হওয়ার পথগুলো এতে যোগ করতে হবে। নকশাকার চিন্তায় পড়ে গেলেন, কারণ এই ভারী পাথর নড়ানো বা নতুন করে খোদাই করা প্রায় অসম্ভব।
আগে এমন পরিবর্তনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক পাথরের স্ল্যাব এনে পুরো শহর আবার শুরু থেকে খোদাই করতে হতো। এটা ছিল ভীষণ ক্লান্তিকর আর ব্যয়বহুল কাজ। গুদামঘর এমন ভারী পাথরের টেবিলে ভরে যেত যে আর পা ফেলার জায়গা থাকত না।
এবার তিনি এক নতুন বুদ্ধি বের করলেন। নতুন পাথর না এনে, তিনি মূল পাথরের ওপর একটা পাতলা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের শিট বিছিয়ে দিলেন। এতে নিচের ভারী পাথরের নকশা যেমন ছিল তেমনই অক্ষত রইল।
এই স্বচ্ছ শিটের ওপর তিনি মার্কার দিয়ে শুধু নতুন বন্যার পথগুলো এঁকে নিলেন। পুরো শহরের লক্ষ লক্ষ রাস্তা আবার আঁকার দরকার হলো না। মূল জ্ঞান পাথরেই রয়ে গেল, আর নতুন পরিবর্তনটুকু জায়গা পেল হালকা প্লাস্টিকের পর্দায়।
এর সুবিধাটা সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা গেল। এখন আর বিভিন্ন কাজের জন্য হাজারটা ভারী পাথর জমানোর দরকার নেই। নকশাকার এখন একটিমাত্র পাথরের টেবিল আর এক ফোল্ডার প্লাস্টিক শিট দিয়েই সব কাজ সামলাতে পারেন। কাজ বদলালে শুধু ওপরের শিটটা বদলে দিলেই হলো।
যখন কেউ ম্যাপটা দেখতে আসেন, তিনি স্বচ্ছ শিটের ভেতর দিয়ে নিচের পাথরটাও দেখতে পান। ওপরের মার্কারের দাগ আর নিচের খোদাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। দর্শক কোনো আলাদা স্তর দেখেন না, বরং দুটো মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকাই চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
এই পরিবর্তনের ফলে এখন ছোট ছোট দলগুলোও নিজেদের প্রয়োজন মতো ম্যাপ তৈরি করতে পারছে। আগে যা ছিল ভারী আর ব্যয়বহুল, এখন তা সবার জন্য সহজলভ্য হয়ে গেল। শুধু একটা হালকা শিট শেয়ার করলেই কাজ চলে যায়।