ছোট টেবিলে তীক্ষ্ণ পোস্টার, আর ফোনের চোখ খোলা
কমিউনিটি হলের ভেতর ভাঁজ করা টেবিলে আমি ছোট স্ক্রিন প্রিন্টিং সেট বসালাম। দরজা খুলতে বেশি দেরি নেই, পোস্টারটা আবার ঝকঝকে চাই। কিন্তু ভারী স্টেনসিল বানাতে গেলে সময়ও যাবে, শক্তিও যাবে। ফোনেরও এমনই চাপ, ছবি বুঝতে হয় কম ব্যাটারিতে।
আগে আমি একটাই বড় স্টেনসিল বানাতাম, যেখানে সব রঙ আর পাশের দাগের প্রভাব একসাথে ধরা থাকে। কাজ হয়, কিন্তু জিনিসটা মোটা, টানতে ভারী, আর বারবার চাপ দিতে হয়। ফোনের ভেতরেও পুরোনো কায়দায় একবারে সব মিলিয়ে দেখতে গেলে খরচটা বড় হয়ে যায়।
এবার আমি দুই ধাপে গেলাম। আগে প্রতিটা রঙের জন্য আলাদা ছোট স্টেনসিল, পাতার ওপর দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে শুধু ওই রঙের খুঁটিনাটি তুললাম। তারপর একই জায়গায় দাঁড়িয়ে দ্রুত মিশিয়ে দিলাম, কোন জায়গায় কতটা কোন রঙ লাগবে। রঙগুলো মানে ছবির আলাদা স্তর, ছোট স্টেনসিল মানে ছোট এলাকায় দেখা, আর মিশানো মানে একই জায়গায় স্তরগুলো জোড়া লাগানো। কাজ কমে, তবু বোঝা যায়।
টেবিলে দাঁড়িয়েই বোঝা গেল সাশ্রয়টা কোথায়। বড় স্টেনসিলে কাটাকুটি বেশি, চাপও বেশি, কারণ সবকিছু একসাথে টানতে হয়। ভাগ করে নিলে প্রথম ধাপটা হালকা থাকে, দ্বিতীয় ধাপটা শুধু দ্রুত মেশানো। ফোনের ক্ষেত্রেও এই ভাগাভাগি সাধারণভাবে হিসাবের কাজ অনেক কমায়, আর ভুলটা বেশির ভাগ কাজে সহ্য করা যায়।
আর আমার হাতে দুটো সহজ নক আছে। এক, কয়টা রঙ রাখব: রঙ কম হলে কাজ দ্রুত, কিন্তু কিছু সূক্ষ্ম ছাপ হারায়। দুই, পোস্টারের মাপ: ছোট হলে কম ঘর ঘর ছাপ দিতে হয়। ফোনেও একই ভাবনা, ভেতরের স্তর কমালে আর ইনপুট ছবি ছোট করলে কাজটা হালকা হয়।
দরজা খুলে লোক ঢুকতেই আমি নতুন করে কিছু বানাতে গেলাম না। ওই একই দুই ধাপ, শুধু নক দুটো ঘুরিয়ে কখনো পরিষ্কার, কখনো দ্রুত পোস্টার। ফোনের জন্যও নতুনত্বটা এই: ছোট করে দেখা আর একই জায়গায় মেশানো আলাদা করা, আর পাশে রাখা দুটো ডায়াল। তাই আজ অনেক কাজে ফোনেই ছবি চিনতে পারে, ব্যাটারি আর সময়ের সাথে মানিয়ে।