দুই দিকেই টানলেও যে গিঁট নড়ে না
ছোট বন্দরের এক চালাঘরে ছেঁড়া জালটা টেবিল জুড়ে ছড়ানো। পাশে দুটো দড়ির রিল। একটার পাক ডানদিকে, আরেকটার বাঁদিকে। যে গিঁটটা ডানপাকি দড়িতে টানে ধরে, বাঁপাকিতে টানলেই ঢিলে হয়ে যায়। তখন মেরামতকারী ভাবল, দুটো দড়িকে বারবার একে অন্যের সাথে জুড়ে দিলে কেমন হয়।
একই ধাঁধা দেখা যায় খুব পাতলা স্ফটিক স্তরের ভেতর। সেখানে ইলেকট্রন যেন দুইটা আয়নার মতো পথে থাকতে পারে, দড়ির ডানপাক আর বাঁপাকের মতো। প্রান্তে অদ্ভুতভাবে “স্পিন” সাড়া দেখা যায়, কিন্তু ভেতরটা শান্ত থাকে, আর পাশে সরে যাওয়া চার্জের মোট স্রোতও থাকে না। ভেতরের লুকোনো নিয়মটাই খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আগের ভাবনায় দুই পথকে আলাদা ধরে নেওয়া হতো, যেন জাল দুটো আলাদা করে সেলাই। নতুন চালটা হলো দুটো জিনিস বানানো, যেগুলো শুরু থেকেই দুই পথকে একসাথে ধরে। একটায় দুই দিক থেকে নেওয়া দুটো ইলেকট্রন, আরেকটায় এক ইলেকট্রন আর এক “ফাঁকা জায়গা” মিলে নিরপেক্ষ জোড়া। তারপর পারস্পরিক গিঁট: একটার চলন অন্যটার গায়ে ঠিকঠাক পাক বসায়।
এই পারস্পরিক গিঁট বসলে সবচেয়ে সহজ স্থির ছকটা চার ধাপের চক্রে ঘোরে, যেন চারবার পাক না দিলে গিঁটটা আগের মতো ঠিক ফিরে আসে না। এখান থেকে আসে “জেড ফোর” ভাবনা। ভেতরে দুই রকম ছোট ঢেউ থাকে; এক ঢেউ আরেকটার চারপাশে ঘুরলে মনে থাকে এক চতুর্থাংশ ঘুরনের ছাপ। জাল উল্টে ধরলে এক গিঁট একই থাকে, আরেকটা উল্টো রূপ নেয়।
দূর থেকে দেখলে অনেক সেলাইই ঠিকঠাক লাগে, কিন্তু ভেতরের নিয়ম এক নাও হতে পারে। এখানে কড়া শর্ত ছিল: চার্জ হারাবে না, সময় উল্টে দিলেও নিয়ম ভাঙবে না, আর প্রান্তে ওই ভগ্নাংশ স্পিন সাড়া থাকতেই হবে, ভেতরটা বন্ধই থাকবে। এই শর্তে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, ভেতরে কমপক্ষে অনেক রকম “ঢেউ-ধরন” লাগবে, ইলেকট্রনও তার মধ্যে এক ধরনের। কিছু ছক সংখ্যায় মেলে, কিন্তু সময়-উল্টানো মানে না।
যে ছকটা টিকে থাকে, সেটা একটা পরিষ্কার চিহ্ন দেয়। সবচেয়ে ছোট চার্জের টুকরোটা অর্ধেকের ধাপে ধাপে ধরা পড়ার কথা, কয়েকটা প্রতিদ্বন্দ্বী ছকের মতো আরও ছোট ভাগে নয়। আর প্রান্তে গোল করে সিগন্যাল ঘোরালে, এক ঢেউ আরেকটাকে ঘুরে এলে তালটা একটু সরে যাওয়ার কথা, ওই এক চতুর্থাংশ ছাপের জন্য। শেষে মেরামতকারী দুদিক থেকে টান দিল, গিঁটটা এবার চুপচাপ ধরে রইল।