এলোমেলো চিঠি সাজানোর জাদুকর
এক শান্ত দুপুরে পুরনো কাগজের গন্ধে ভরা একটা ঘর। টেবিলে ছড়িয়ে আছে একগাদা নষ্ট হয়ে যাওয়া চিঠি। কোনোটার ওপর কালির দাগ পড়ে লেখা মুছে গেছে, কোনোটার পাতাগুলো বাতাসে উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে। একজন শিক্ষানবিশ খুব মনোযোগ দিয়ে সেগুলোকে ঠিক করার চেষ্টা করছে। তার কাজ শুধু পড়া নয়, বরং এই জগাখিচুড়ি অবস্থা থেকে মূল লেখাটা উদ্ধার করা।
আগে এই কাজ করার দুটো চলতি নিয়ম ছিল। কেউ হয়তো একটা আঙুল দিয়ে একটা শব্দ ঢেকে আন্দাজ করত নিচে কী লেখা আছে। আবার কেউ পুরোটা না দেখেই একনাগাড়ে পরের শব্দটা লেখার চেষ্টা করত। কিন্তু যখন চিঠির পাতাগুলো খুব বেশি এলোমেলো থাকত বা বড় অংশ ছিঁড়ে যেত, তখন এই সাধারণ অনুমান আর কাজে লাগত না।
শিক্ষানবিশ এবার এক অদ্ভুত উপায়ে অভ্যাস শুরু করল। সে ভালো চিঠিগুলো নিয়ে ইচ্ছে করে নষ্ট করতে লাগল। কখনো বড় বাক্যের ওপর কালি ঢেলে দেয়, আবার কখনো প্যারাগ্রাফগুলো অদলবদল করে ফেলে। এই ইচ্ছে করে তৈরি করা জঞ্জাল ঠিক করতে গিয়েই সে বুঝতে শিখল, আসলে গল্পের বুননটা কেমন হওয়া উচিত।
মেরামতের সময় সে এখন দুটো ধাপ মেনে চলে। প্রথমে সে পুরো নষ্ট চিঠিটা একনজরে দেখে নেয়, যাতে মূল ভাবটা বোঝা যায়। তারপর সেই ধারণাটা মাথায় রেখে সে ধীরে ধীরে, একটার পর একটা শব্দ বসিয়ে নতুন করে পরিষ্কার চিঠিটা লেখে। এতে সে বড় বড় ফাঁক পূরণ করতে পারে এবং এলোমেলো লাইনগুলো ঠিকঠাক সাজাতে পারে।
এই কঠিন অভ্যাসের ফল মিলল হাতেনাতে। এখন সে শুধু বানান ঠিক করে না, বরং পুরো লেখাটাই নতুন রূপ দিতে পারে। একটা লম্বা, অগোছালো রচনাকে সে সহজেই ছোট করে গুছিয়ে লিখতে পারে, এমনকি অন্য ভাষার কাঠামো থেকেও নিজের ভাষায় সাজাতে পারে। ভাঙা শব্দ জোড়া লাগাতে গিয়েই সে শিখে গেল কীভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে হয়।