কাগজের প্লেনের মতো ওড়া
যুদ্ধবিমানের কথা ভাবুন, যেটা গায়ের জোরে বাতাস চিরে এগিয়ে যায়। আর একটা কাগজের প্লেন? সে কিন্তু বাতাসের ওপরই ভেসে থাকে। এতদিন আমাদের বিজ্ঞান ছিল ওই জেটের মতো, পরিবেশ থেকে আলাদা হয়ে চলত। এখন আমরা শিখছি কীভাবে কাগজের প্লেনের মতো আলতো করে উড়তে হয়।
জেটের পাইলট স্টিয়ারিং ঘোরালে তেলের ট্যাঙ্কে টান পড়ে না। কিন্তু কাগজের প্লেনের জগতে পাইলট নিজেই বিশাল। সেখানে দিক ঠিক করতে আঙুল নাড়ালেই পুরো প্লেন কেঁপে ওঠে। আমরা দেখলাম, ছোট স্কেলে শুধু রাস্তা মাপতে গেলেই ওড়ার চেয়ে বেশি শক্তি খরচ হয়ে যায়।
ভেসে থাকার জন্য বাতাসের সাথে লড়াই থামিয়ে তার সাথে মিশে যেতে হয়। এখানে বাইরের বাতাসই হলো ইঞ্জিন। জ্বালানি না পুড়িয়ে আমরা বাতাসের তাপ আর কম্পনকেই কাজে লাগাই। যেটা আগে বাধা বা 'ড্র্যাগ' ছিল, সেটাই এখন আমাদের ওড়ার শক্তি।
এই প্লেনগুলো দল বেঁধেও ওড়ানো যায়। দশটা প্লেন আলাদা ছাড়লে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে। কিন্তু অদৃশ্য সুতো দিয়ে বাঁধলে তারা একটা বড় চাদরের মতো বাতাস ধরে। তখন সামান্য বাতাসেই তারা একসাথে অনেক উঁচুতে উঠে যেতে পারে, যা একা সম্ভব ছিল না।
এই ওড়ার কায়দা আমাদের সময় মাপার ধারণাও বদলে দিচ্ছে। ভারী ঘড়ি আবহাওয়া পাত্তা দেয় না, কিন্তু কাগজের প্লেন বাতাসের প্রতিটি ঢেউ টের পায়। এই ঢেউ মেপেই আমরা এখন নিখুঁত সময় বুঝতে পারি। আকাশ চিরে নয়, বরং বাতাসের ভাষা পড়েই আমরা নতুন যন্ত্র বানাচ্ছি।