উত্তাল নদীতে টিকে থাকার আসল মন্ত্র
একজন অভিজ্ঞ নাবিক সরু এক খালের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে উত্তাল ঢেউ, আর একদল ছোট নৌকা ওপারে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। খোলা সাগরে চলার মতো অঢেল জায়গা এখানে নেই। ঢেউয়ের ধাক্কায় কে টিকবে আর কে ডুববে, সেটাই তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন।
সাধারণ বুদ্ধি বলে, যার ইঞ্জিনের জোর বেশি, সেই সবার আগে পৌঁছাবে। জল যদি শান্ত থাকত, তবে দ্রুতগতির নৌকাগুলোই নিঃসন্দেহে জিতে যেত। নাবিকও শুরুতে ভেবেছিলেন, এই শক্তিশালী নৌকাগুলোই আজ দাপট দেখাবে এবং সহজে পার হয়ে যাবে।
কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি ভিন্ন। প্রতিটি নৌকার লড়াই আলাদা করে দেখা অসম্ভব। তাই নাবিক একটি বিশেষ ম্যাপের দিকে তাকালেন। সেখানে নৌকাগুলোকে আলাদা বিন্দু হিসেবে না দেখে, পুরো দলটাকে পানির স্রোতের মতো একটি প্রবাহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ম্যাপে এমন কিছু ধরা পড়ল যা আগে বোঝা যায়নি। দেখা গেল, স্রোতটা শুধু সোজা পথে এগোচ্ছে না, বরং যেখানে ঢেউয়ের তোড় বেশি, সেখান থেকে সরে আসছে। এই বিশৃঙ্খল ঢেউগুলো আসলে ছাঁকনির মতো কাজ করছে, যা কিছু নৌকাকে আটকে দিচ্ছে।
যারা খুব বেশি তাড়াহুড়ো করছে বা ঘনঘন দিক বদলাচ্ছে, তারাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে। আচমকা আসা ঢেউ তাদের সহজেই উল্টে দিচ্ছে। দেখা গেল, অতিরিক্ত চঞ্চলতা বা গতির নেশা এই উত্তাল পথে তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
অথচ যারা একটু ধীরস্থির, তারা ঠিকই ঢেউয়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। নাবিক বুঝলেন, এই সীমিত ও গোলমেলে পরিস্থিতিতে শুধু গতি দিয়ে জয়ী হওয়া যায় না। এলোমেলো ধাক্কা সামলে যে টিকে থাকতে পারে, শেষ পর্যন্ত সেই গন্তব্যে পৌঁছায়।