হারানো জিনিসের টেবিল আর ছবির মিল খোঁজার নতুন কৌশল
পার্কের হারানো জিনিসের টেবিলে আমি জিনিসগুলো ছড়িয়ে দিলাম। লাল স্কার্ফ, খেলনা গাড়ি, চাবির রিং, ফোনের কভার। লোকজন বলে যায় ছোট নীল গাড়ি বা লাল বোনা স্কার্ফ, আর আমি তালিকা দেখে না, মিল দেখে ঠিক জিনিসটা তুলে দিই। ছবিগুলো যেন জিনিস, আর ছোট লেখা যেন ওই বর্ণনা।
আগে অনেক জায়গায় নিয়ম ছিল আলাদা, হাতে লেখা একটা তালিকা। তালিকায় স্কার্ফ আর চাবি আছে, কিন্তু ফোনের কভার নেই, তো টেবিলের মানুষটা আটকে যায় বা আন্দাজ করে। ছবির ক্ষেত্রেও এমন হতো, আগে থেকে ঠিক করা নামের বাইরে কিছু এলে গড়বড়।
নতুন চালটা হলো টেবিলে দুটো জিনিস একসাথে গুছিয়ে নেওয়া। একদল লোক জিনিসটা দেখে ছোট্ট একটা ছাপ বানায়, আরেকদল লোক বর্ণনা পড়ে একই রকম ছোট্ট ছাপ বানায়। ছাপ মানে খুব ছোট করে রাখা চেনা ভাব, যাতে মিল থাকা দুটো ছাপ কাছাকাছি থাকে।
অনুশীলনটা যেন দ্রুত বাছাইয়ের খেলা। টেবিলে অনেক জিনিস আর অনেক বর্ণনা একসাথে থাকে, আর বারবার ঠিক জোড়া ধরতে হয় ভুলগুলোর ভিড়ের মধ্যেই। এভাবে তালিকা মুখস্থ না করে, কোনটা কার সাথে যায় সেই অনুভবটা দাঁড়িয়ে যায়। নেওয়ার কথা একটাই, বারবার ঠিক মিল ধরলেই ছাপগুলো একই পথে হাঁটে।
পরে কেউ এসে বলে ডোরাকাটা ছাতা, আর ছাতা আগে তালিকায় না থাকলেও আমি কথাটা ধরে খুঁজে ফেলতে পারি। ছবির দুনিয়াতেও কেউ নতুন নামে লিখলেই মিল খোঁজা যায়। শব্দ বদলালে ফল বদলায়, তাই মানুষ কখনও একটু পরিষ্কার বাক্য লেখে, কখনও কাছাকাছি কয়েক রকম বাক্য মিলিয়ে দেখে গোলমাল কমাতে।
এইভাবে শেখা মিল খোঁজা অনেক রকম ছবিতে টিকে যায়, ছবি আঁকা হলে বা ঝাপসা হলেও। কিন্তু সব কাজে সমান নয়, যেমন খুব খুঁটিয়ে গোনা বা একদম বিশেষ জিনিস চিনতে হলে টেবিলের মানুষটাও হোঁচট খায়। আর যদি অনুশীলনের বর্ণনাগুলো এলোমেলো বা কটু হয়, সেই খারাপ অভ্যাসও লেগে যেতে পারে, শব্দের চয়নেও ক্ষতি হতে পারে।
দিন শেষে টেবিলে তফাতটা পরিষ্কার। তালিকা-ভিত্তিক টেবিল গুছানো, কিন্তু সরু পথ। নতুনভাবে শেখা টেবিল পাহাড়সম জিনিস আর বর্ণনা দেখে, তাই নতুন বাক্য এলেও মিল খুঁজে নেয়। সুবিধা আছে, কিন্তু তাই বলে যা খুশি শব্দ চলবে না, সাবধানতা দরকার।