বাতাসের গতি আর বিশৃঙ্খলার আসল পার্থক্য
বিজ্ঞানীরা যখন জটিল ভৌত ব্যবস্থার গতির হিসাব করেন, তখন তারা একটা মজার কল্পনার সাহায্য নেন। ধরুন, ভোরের আলোয় একটা গভীর গিরিখাতে দুটো হট এয়ার বেলুন ওড়ানো হলো। দুটোই ঠিক একই উচ্চতায় আছে। বাতাস শান্ত নাকি এলোমেলো, তা বুঝতে তারা বেলুন দুটোর দূরত্ব মাপতেন। দূরত্ব বাড়লেই ধরে নেওয়া হতো বাতাস খুব বিশৃঙ্খল।
কিন্তু এই সহজ নিয়মে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়। ধরুন, গিরিখাতের মাঝখান দিয়ে খুব শান্ত অথচ দ্রুত একটা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। একটা বেলুন সেই হাওয়ায় পড়ে হুশ করে সামনে এগিয়ে গেল। এতে বেলুন দুটোর মাঝের দূরত্ব অনেক বেড়ে যায়। পুরনো নিয়মে একে বিশৃঙ্খলা বলা হলেও, আসলে বেলুন দুটো একদম সোজা পথেই এগোচ্ছিল।
এই ভুল শুধরাতে বিজ্ঞানীরা নতুন একটা উপায় বের করলেন। তারা শুধু বেলুন দুটোর মোট দূরত্ব না মেপে, কোন দিকে সরছে সেটা দেখতে চাইলেন। ব্যাপারটা হলো, বেলুন দুটোকে একই উচ্চতায় রেখে তাদের চারপাশে একটা কাল্পনিক ছক কষে নেওয়া হলো। এর ফলে বোঝা যাবে মূল বাতাসের পথের তুলনায় বেলুনগুলো ঠিক কোন দিকে ভাসছে।
আসল রহস্য লুকিয়ে আছে বেলুনের সরে যাওয়ার কোণের মধ্যে। যদি একটা বেলুন শুধু সোজা সামনের দিকে জোরে এগোতে থাকে, তার মানে বাতাস একদম শান্ত। আসল বিশৃঙ্খলা তখনই দেখা যায়, যখন বেলুন দুটো একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে বাতাসের পথের আড়াআড়ি দিকে সরে যায়। নতুন নিয়মে এই আড়াআড়ি সরে যাওয়াটাই হলো আসল মাপকাঠি।
এই আড়াআড়ি মাপকাঠির ধারণাটি জটিল গতির মডেলগুলোতে ব্যবহার করে দেখা গেছে, অনেক সোজা পথকেই আগে ভুল করে বিশৃঙ্খল ভাবা হতো। তবে এই নতুন নিয়মে অনেক জট খুললেও, নিয়ম আর বিশৃঙ্খলার মাঝের সীমানাটা এখনো কিছুটা অস্পষ্ট। এই সীমানা পুরোপুরি বুঝতে বিজ্ঞানীদের এখনো অনেক কাজ করতে হবে।