অদ্ভুত চাকা আর দুই পাকের রহস্য
আবছা আলোয় ভরা একটা ঘর। সেখানে একটা টেবিল থরথর করে কাঁপছে, যেন প্রবল ঝড় বইছে। একজন ঘড়ি কারিগর খুব মনোযোগ দিয়ে একটা অদ্ভুত চাকা পরীক্ষা করছেন। চাকাটা কোনো হাতের স্পর্শ ছাড়াই চুম্বকের টানে ঘুরছে।
সাধারণত এমন চাকা ঘুরলে প্রতি পাকে একবার করে 'খট' শব্দ হয়। মানে চাকাটা ঠিক জায়গায় লকের মতো আটকে গেছে। এই পরিচিত শব্দটাই বলে দেয় যে ঘড়ির সব কলকব্জা ঠিকঠাক কাজ করছে।
কিন্তু এই নতুন চাকাটা অদ্ভুত আচরণ করছে। প্রথম পাক ঘোরার পর কোনো 'খট' শব্দ হলো না। একদম চুপচাপ। যেখানে অন্য সব চাকা আটকে যায়, এটা সেখানে না থেমে মসৃণভাবে ঘুরে গেল।
আসলে চাকাটার ভেতরের গড়ন একটু প্যাঁচানো। এটা একবার ঘুরলে নিজের জায়গা খুঁজে পায় না। ঠিকঠাক লকের মতো আটকাতে হলে এটাকে পুরো দুবার ঘুরতে হয়। এটাই এর বিশেষত্ব।
এদিকে টেবিলটা সমানে কাঁপছে আর ঘর্ষণে চাকাটা গরম হয়ে উঠছে। এমন হট্টগোলের মধ্যে সাধারণত সূক্ষ্ম যন্ত্রের তাল কেটে যায়। চাকাগুলো তখন এলোমেলো আচরণ করে, ভুল সময়ে আটকে যায়।
কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো, এত ঝাঁকুনিতেও সেই প্রথম পাকের 'নিঃশব্দ' ভাবটা বজায় রইল। চাকাটার ওই দুই-পাকের নিয়ম এতটাই পোক্ত যে বাইরের কোনো বিশৃঙ্খলা একে বোকা বানাতে পারল না।
এর মানে হলো, এই প্যাঁচানো পদ্ধতিতে তথ্য জমা রাখলে তা সহজে নষ্ট হয় না। প্রচণ্ড গরম আর নড়বড়ে অবস্থাতেও এই প্রযুক্তি ঠিকঠাক কাজ চালিয়ে যেতে পারে।