গেম খেলে যেভাবে শেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ভাবুন একটা ছোট্ট কুকুরছানা রোদেলা মাঠে কাঠের সিঁড়ি বাওয়া শিখছে। সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, নিয়মগুলোও বেশ সহজ। শুরুর দিকের কম্পিউটার প্রোগ্রামগুলোও এভাবেই দাবা বা লুডুর মতো গেম খেলত। সেখানে খেলার বোর্ড পুরোপুরি দেখা যায়, আর সব চাল আগে থেকেই মাপা থাকে।
এবার ট্রেইনার কুকুরটাকে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন এক নকল বনে ছেড়ে দিলেন। এখানে মাটি উঁচু-নিচু, দূরের কিছু দেখা যায় না। আধুনিক ভিডিও গেমগুলোও ঠিক এমন। সেখানে পুরো ম্যাপ দেখা যায় না, তাই কম্পিউটারকে অল্প তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
কুকুরটা যাতে রাস্তা মুখস্থ না করে ফেলে, তাই প্রতিদিন মাঠের গাছ আর গর্তগুলোর জায়গা বদলে দেওয়া হয়। এআই গবেষণাতেও কম্পিউটার নিজেই নতুন নতুন গেমের লেভেল বানায়। এতে সে শুধু ম্যাপ মুখস্থ করে না, বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে পথ খুঁজে বের করার আসল কৌশলটা শিখে নেয়।
এখন একদল কুকুর মিলে একটা ভারী কাঠের গুঁড়ি সরাচ্ছে। কেউ ঘেউ ঘেউ করছে না, শুধু ইশারা বুঝে কাজ করছে। ডিজিটাল জগতেও একাধিক চরিত্রকে এভাবেই দলবেঁধে কাজ করতে হয়। এখানে একা দৌড়ানোর চেয়ে সঙ্গীর নড়াচড়া বুঝে তাল মেলানোটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
অবশেষে সব বেড়া সরিয়ে কুকুরগুলোকে খোলা প্রান্তরে ছেড়ে দেওয়া হলো। এখানে নির্দিষ্ট কোনো ফিনিশ লাইন বা পুরস্কার নেই। কম্পিউটারকেও এখন মাইনক্রাফটের মতো খোলা গেমে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে 'ঘর বানাও'-এর মতো অস্পষ্ট নির্দেশ থাকে, আর সে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে বাঁচার উপায় বের করে।
প্রশিক্ষণ শেষ। কুকুরটা এখন নকল মাঠ ছেড়ে সত্যিকারের দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় কাজ করতে প্রস্তুত। গেম দিয়ে এআই শেখানোর আসল উদ্দেশ্যও এটাই। ভার্চুয়াল জগতের এই খেলাগুলো আসলে রোবটকে বাস্তব পৃথিবীর কঠিন সমস্যা মোকাবিলার জন্য তৈরি করার প্রস্তুতি মাত্র।