সিল করা ঘরে সত্যটা কার লেখা থাকবে?
জাদুঘরের গুদামের লম্বা করিডরে একটা কাঠের বাক্স রাখা, সিল মারা। ভেতরের ঘরে ঢুকতে পারে শুধু সংরক্ষণকর্মী। কিউরেটর বাইরে দাঁড়িয়ে দেয়ালের দুটো আলো দেখে, ঘরটা সিল আছে কি না আর ভেতরে কিছু ছোঁয়া হয়েছে কি না। দুজনের প্রশ্ন একটাই, বাক্সে এই মুহূর্তে কী আছে?
সংরক্ষণকর্মী ঢাকনা খুলে একটা পরিষ্কার জিনিস দেখে, নোট করে, আবার ঢাকনা লাগায়। কিউরেটর কিছুই দেখে না। তাই কিউরেটরের কাছে বাক্স আর ঘর মিলিয়ে একটা বড় “না-খোলা প্যাকেট”। বাক্সটা ধরুন খুব ছোট একটা রহস্যময় বস্তু, সংরক্ষণকর্মী ভেতরের দেখনেওয়ালা, কিউরেটর বাইরের। একসাথে মিলাতে গেলেই ঝামেলা।
তারা একটা যৌথ ক্যাটালগ লিখতে বসে। সংরক্ষণকর্মী বলে, “আমি দেখেছি, জিনিসটা ঠিক এটিই।” কিউরেটর বলে, “আমি শুধু বলতে পারি ঘরটা বাইরে থেকে এখনো সিল করা একটাই ব্যবস্থা।” দুজনই সৎ, কিন্তু দুটো বর্ণনা সব সময় এক কাগজে জুড়ে দিলে গরমিল হয়।
কিউরেটর নতুন নিয়ম প্রস্তাব করে। বাইরে থেকে এমন একটা পরীক্ষা, যেটা শুধু তখনই একটা নরম প্যাটার্ন দেখাবে যদি ভেতরে যা হয়েছে সব উল্টে আগের অবস্থায় ফেরানো যায়। যেন লগ বদলে, সিল ঠিক করে, সব চিহ্ন মুছে দিলে বাইরে থেকে বোঝাই যাবে না কিছু ঘটেছিল। কিন্তু যদি একই সাথে বলা হয়, “যা দেখা হয়েছে সেটা চিরকাল তালিকায় থাকবে,” তখন দুই দাবি একসাথে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
এবার ব্যাপারটা দলগত খেলা। একজন রেফারি দুই রকম বাইরের চেকের যেকোনো একটা বেছে নেবে। দল চায়, রেফারি যা-ই নিক, জেতা নিশ্চিত। সহজ শর্টকাটটা মানুষের অভ্যাস: “কিউরেটর যদি নিশ্চিত হয় সংরক্ষণকর্মী নিশ্চিত, তাহলে সেটাই সত্য।” কিন্তু এই অভ্যাস ধরে রাখলে দল সব সময় জিতে যাবে, আর সেই নিয়মই বলে সেটা হওয়া কথা না। তাই কোথাও ছাড় দিতেই হবে।
এখন সেই সিল করা ঘরটা ভাবুন চরম রকমের সিল করা জায়গা, একটা ব্ল্যাক হোল। যে মহাকাশচারী ভেতরে পড়ে যাচ্ছে, সে সংরক্ষণকর্মীর মতো কাছ থেকে ঘটনা টের পায়। দূরে থাকা কেউ ব্ল্যাক হোলের হালকা তাপের মতো জ্যোতি ধরে শুধু বাইরে থেকে আন্দাজ করে, কিউরেটরের মতো। “ফায়ারওয়াল” ভাবনাটা জোর পায় যখন এই দুই দিকের কথা জোড়া দিয়ে একটাই মাস্টার সত্য বানানো হয়।
শেষে সন্দেহটা জায়গার ওপর নয়, আমাদের অভ্যাসের ওপর পড়ে। আমরা ধরে নিই আলাদা আলাদা দেখার জায়গার সিদ্ধান্ত সবসময় সেলাই করে একটা একক গল্প বানানো যাবে। এই গল্পটা বলে, সবসময় যাবে না, কারণ সবাই কখনো একই প্রমাণ ভাগ করে নিতে পারে না। তাই দরকার সেলাইয়ের নতুন নিয়ম, যেটা কথাবার্তা আর রেকর্ড চলতে দেবে, কিন্তু জোর করে এক সত্য বানাবে না।