বিশাল ছবি ও একটি জাদুকরী টর্চ
ভাবুন একজন শিল্পী বিশাল এক দেয়ালচিত্র সারাচ্ছেন, যা লম্বায় প্রায় এক মাইল। শুরুর প্রতিটি তুলির আঁচড় মনে রেখে যদি শেষের কাজ করতে হয়, তবে তিনি এগোতেই পারবেন না। এত তথ্য একসাথে মাথায় রাখা মানুষের পক্ষে অসম্ভব, তাই কাজটা শুরুতেই আটকে যায়।
কাজ সহজ করতে তিনি দেয়ালটিকে ছোট ছোট ফ্রেমে ভাগ করে নিলেন। এতে কাজটা করা গেল বটে, কিন্তু ছবিটা আর মিলল না। এক ভাগের মেঘের সাথে পরের ভাগের মেঘের কোনো মিল নেই। পুরো গল্পের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে গেল, মনে হলো যেন ভাঙা কাচের টুকরো।
এবার তিনি একটা নতুন কৌশল নিলেন। পুরো দেয়াল নিয়ে না ভেবে, তিনি একটা টর্চ দিয়ে শুধু সেই জায়গাটুকু আলো করলেন যেখানে তিনি কাজ করছেন। আলোটা তার সাথে সাথে এগোচ্ছে। এতে তিনি আগের অংশের সাথে রং মিলিয়ে অনায়াসে কাজ করে যেতে পারছেন।
কিন্তু পুরো ছবির ভারসাম্য ঠিক থাকবে তো? সেটা নিশ্চিত করতে তিনি মাঝেমধেই দিগন্তরেখার মতো মূল বিন্দুগুলোর দিকে তাকাচ্ছেন। সব খুঁটিনাটি মনে না রেখেও, শুধু এই বিশেষ জায়গাগুলো খেয়াল রেখেই তিনি পুরো ছবির সামঞ্জস্য ধরে রাখছেন।
জটিল নকশার ক্ষেত্রে তিনি প্রতি ইঞ্চিতে নজর দিচ্ছেন না। বরং একটু দূর থেকে নকশার ছন্দটা দেখে নিচ্ছেন। সবটুকু না দেখেও তিনি বুঝে যাচ্ছেন যে নকশাটা কীভাবে এগোবে। এতে কম পরিশ্রমেও নিখুঁত কাজ হচ্ছে, কারণ সব সময় সব কিছু দেখার দরকার হয় না।
শেষমেশ তিনি পুরো দেয়ালটি একনাগাড়ে শেষ করলেন, কোথাও কোনো জোড়াতালি নেই। ঠিক এভাবেই এখনকার কম্পিউটার মডেলগুলো বিশাল বই বা আইনি দলিল একনিশ্বাসে পড়ে ফেলতে পারে। প্রথম পাতার সাথে শেষ পাতার সম্পর্কটা তারা এখন আর টুকরো না করেই বুঝতে পারে।