বাক্সের ছবি ছাড়া ধাঁধা, তবু পুরো ছবিটা ধরা যায় কীভাবে
বাচ্চারা মেঝেতে বড় জিগস ধাঁধা ছড়াল, আর আমি বাক্সের ছবিটা আলমারিতে তুলে রাখলাম। টুকরোগুলো জোড়া না লাগিয়ে আমি লম্বা সারিতে সাজালাম, কোনটা কার সঙ্গে মানাবে সেটা দেখে পুরো ছবিটা আন্দাজ করতে লাগলাম।
সাধারণভাবে ছবি চিনতে শেখানো যন্ত্রগুলো এমন অভ্যাস নিয়ে শুরু করে, যেন ধাঁধায় আগে পাশের টুকরোই বেশি কাজে লাগে। আমার ধাঁধায় সেটা হলে আমি আগে প্রান্তের টুকরো, ছোট ছোট গুচ্ছ ধরতাম। অল্প ধাঁধা দেখা থাকলে এভাবে চলেও যায়, কিন্তু পরে দূরের ইঙ্গিত ধরতে কষ্ট হয়।
একদিন আমি উল্টো কাণ্ড করলাম। ধাঁধাটাকে ছোট ছোট খোপ ধরে টুকরোগুলোকে ছোট কার্ডে নাম দিলাম, তারপর কার্ডগুলোকে সারিতে রাখলাম। সারির একদম সামনে একটা বিশেষ কার্ড রাখলাম, যেখানে শেষ পর্যন্ত পুরো ছবিটার আন্দাজ জমা হবে। ছবির ক্ষেত্রেও ছোট খোপগুলো এমন সারির টুকরো হয়ে যায়।
সারি যেন গুলিয়ে না যায়, তাই প্রতিটা কার্ডে হালকা করে লিখে দিলাম মেঝের কোন দিক থেকে এসেছে। তারপর আমি শুধু পাশের কার্ড নয়, সারির যেকোনো কার্ডকে যেকোনো কার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম। এতে এক কোণের ছোট দাগ আর অন্য কোণের বড় আকার, দুটোকে শুরুতেই একসঙ্গে ধরা যায়।
বাক্সের ছবি না দেখে, আর কম ধাঁধা করা থাকলে আমার ভুল বেশি হলো। কারণ আমার মাথায় আগে থেকে ধাঁধা-ধরা নিয়ম কম ছিল। কিন্তু অনেক অনেক ধাঁধা করতে করতে চোখে একটা অভ্যাস এসে গেল, কোন রঙ কোনটার দিকে যেতে পারে। ছবি চিনতেও এই সারি-করা কায়দা অনেক উদাহরণ দেখলে ধীরে ধীরে শক্ত হয়।
একবার একই ধাঁধার বড় ছাপা কপি পেলাম। আমি শেখা জিনিসটা ফেলে দিলাম না; শুধু মেঝের দাগগুলো একটু টেনে বড় করলাম, যাতে কার্ডগুলোর জায়গা ঠিক থাকে। ছবিও বড় করে দেখালে ওই জায়গার চিহ্নগুলো এমনভাবেই মানিয়ে নেওয়া যায়, আর বাকি কাজটা একই রকম থাকে।
শেষে আমার নিয়মটা সোজা হয়ে গেল। ছোট খোপের কার্ড বানাও, কোনটা কোথা থেকে এসেছে মনে রাখো, সব কার্ডকে সব কার্ডের সঙ্গে কথা বলতে দাও, তারপর সামনের বিশেষ কার্ডে চূড়ান্ত আন্দাজ লেখো। পুরোনো কায়দা শুরুতেই ধাঁধা-ধরা অভ্যাস ঢুকিয়ে দেয়, আর এই কায়দা অভ্যাসটা মূলত অনেক দেখা থেকে শিখে নেয়।