টানেলের দুই দেয়াল কীভাবে দূরের অদৃশ্য ধাক্কা ধরল
লম্বা টানেলে রাতের ডিউটি। দেয়ালে দূরে দূরে দুটো কম্পন মাপার যন্ত্র আটকে আছে। ভারী ট্রাক এখনো দূরে, তবু মেঝে হালকা কাঁপে, আর সেই কাঁপুনি দুটো যন্ত্রেই প্রায় একইভাবে ধরা পড়ে। ঠিক এইরকমই, দূরে দুটো যন্ত্র একসাথে মহাকাশের খুব ক্ষীণ কাঁপুনি ধরতে পারে।
ব্যাপারটা হলো টানেল কখনো পুরো চুপ থাকে না। ফ্যানের হাওয়া, দূরের গাড়ি, দেয়ালের ছোট নড়াচড়া সব মিলিয়ে যন্ত্রগুলো অকারণে টুকটাক কাঁপে। তাই এক পাশের একটামাত্র টোকা দেখেই বিশ্বাস করা যায় না, দুপাশে মিলছে কি না দেখতে হয়।
তারপর হঠাৎ একটা পরিষ্কার ছাপ এল। কাঁপুনিটা খুব অল্প সময় থাকে, আর গম্ভীর গুঞ্জন থেকে দ্রুত চিকন সুরে উঠে যায়, ঠিক কাছে আসা ট্রাকের মতো। দুটো যন্ত্র প্রায় একই সময়ে সেই উঠতে থাকা কাঁপুনি ধরল, তাই এটা আলাদা আলাদা গোলমাল মনে হলো না।
ধরার কাজটা একভাবে হয়নি। এক দল খুঁজল, দুটো যন্ত্রে একসাথে কোনো অস্বাভাবিক কাঁপুনি আছে কি না, ট্রাকটা ঠিক কেমন না ভেবেই। আরেক দল অনেক সম্ভাব্য ট্রাক-পাস করার ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে দেখল কোনটা সবচেয়ে ভালো বসে। মিলটা এত পরিষ্কার ছিল যে চোখ এড়ায়নি।
তারপর সন্দেহের দিকটা দেখা হলো। যদি এক পাশে কেউ ভারী কিছু ফেলে দেয়, অন্য পাশের যন্ত্রে একই ছাপ পড়ার কথা না, আর আশেপাশের নজরদারি যন্ত্রগুলোও টের পেত। দেখা গেল এমন কোনো কাছের গোলমাল নেই, আর যে ছোটখাটো নড়াচড়া ছিল তা এই মিল-ধরা কাঁপুনি বানানোর মতো শক্তিশালী না।
এই ছাপটা হাতে পেয়ে তারা ঘটনার খুঁটিনাটি আন্দাজ করল। টানেলে যেমন কাঁপুনি ওঠা আর থেমে যাওয়ার ভঙ্গি দেখে ট্রাকের গতি আর ভার বোঝা যায়, তেমনি এখানে উঠতে থাকা অংশ আর শেষে থিতিয়ে যাওয়ার অংশ বলল, দূরে দুটো খুব ভারী কালো গর্ত ঘুরতে ঘুরতে এক হয়ে গেছে, আর কাঁপুনিটাই শক্তি নিয়ে চলে গেছে।
আগে এমন কাঁপুনি থাকার কথা অনেকেই ভাবত, কিন্তু হাতে ধরা ছিল না। এবার দূরের দুটো যন্ত্র একই দ্রুত উঠতে থাকা ছাপ পেল, দু’ভাবে মিলিয়ে দেখল, আর কাছের গোলমালও বাদ দিল। টানেলের দুটো দেয়াল যেমন একই ট্রাককে সত্যি বলে চিনিয়ে দেয়, তেমনি এই মিলটাই অদৃশ্য ঘটনাকে বাস্তব করে তুলল।